পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ার মূল কারণ ডলারের মূল্যবৃদ্ধি, নয় কর বা শুল্ক: এনবিআর
প্রকাশিত: জানুয়ারী ২৫, ২০২৬, ০৫:১২ বিকাল
ছবি: সংগৃহিত
বাজারে ফলসহ আমদানিনির্ভর পণ্যের দাম বৃদ্ধি মূলত ডলারের ঊর্ধ্বমুখী মানের কারণে, কর বা শুল্ক নয়-এমনটি জানিয়েছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান।
আন্তর্জাতিক কাস্টমস দিবস উপলক্ষ্যে রোববার (২৫ জানুয়ারি) আগারগাঁওয়ের এনবিআর ভবনে আয়োজিত ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।
চেয়ারম্যান বলেন, রাজস্ব বৃদ্ধির জন্য গত দেড় বছরে কোনো পণ্যের শুল্ক বৃদ্ধি করা হয়নি। বরং জনগণের স্বার্থে চাল, পেঁয়াজ, আলু এবং সয়াবিন আমদানি শুল্ক কমানো হয়েছে। তাই বাজারে ফলসহ আমদানিনির্ভর পণ্যের দাম বৃদ্ধির মূল কারণ কর বা শুল্ক নয়, বরং ডলারের মূল্যবৃদ্ধি।
যদি কেউ জানতে চায়, ফলের উপর উচ্চকর কেনো, তিনি বলেন, কিছু জায়গায় ভুল তথ্য প্রচলিত আছে। গত দুই বছরে ফলের শুল্ক বৃদ্ধি করা হয়নি। বরং ফল আমদানিতে আগে যে ১০ শতাংশ ইনকাম ট্যাক্স ছিল, তা কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হয়েছে। খেজুর আমদানির ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য হারে শুল্কও কমানো হয়েছে।
এনবিআর চেয়ারম্যান আরও বলেন, ডলারের মান গত দুই বছরে প্রায় ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। দুই বছর আগে ডলারের দাম ছিল ৮০-৮৫ টাকা, বর্তমানে তা দাঁড়িয়েছে ১২৬-১২৭ টাকায়। ফলে বিদেশ থেকে যেকোনো পণ্য আমদানিতে খরচ স্বাভাবিকভাবেই বেড়েছে। ফল বা অন্যান্য পণ্যের দাম বাড়ার সবচেয়ে বড় কারণ এখানেই নিহিত।
চেয়ারম্যান জানান, সরকার সামগ্রিকভাবে শুল্ক কাঠামো যৌক্তিক করার দিকে এগোচ্ছে। ট্যারিফ ট্রান্সফরমেশন নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রধান উপদেষ্টার কাছে জমা দেওয়া হয়েছে, যেখানে শুল্ক কমানোর সুপারিশ করা হয়েছে। এলডিসি থেকে উত্তরণের পর বাংলাদেশ আর উচ্চ শুল্ক কাঠামো ধরে রাখতে পারবে না। তবে দেশীয় শিল্প সুরক্ষার স্বার্থে কিছু ক্ষেত্রে শুল্ক বৃদ্ধি করা হয়।
রাজস্ব আদায়ের বিষয়ে তিনি বলেন, “লক্ষ্যমাত্রা চ্যালেঞ্জিং হলেও সামগ্রিক প্রবৃদ্ধি খারাপ নয়। অনলাইন রিটার্ন বাধ্যতামূলক করার পর রাজস্ব আদায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এখন পর্যন্ত প্রায় ৪৭ লাখ করদাতা অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করেছেন, যাদের মধ্যে প্রায় সাড়ে ৩৪ লাখ রিটার্ন দাখিল করেছেন। অনলাইন রিটার্নের মাধ্যমে সরাসরি প্রায় ৪৩০ কোটি টাকা আদায় হয়েছে, যা গত বছর ছিল প্রায় ১৭০ কোটি।”
চেয়ারম্যান আশা প্রকাশ করেন, শেষ মুহূর্তে প্রতিদিন এক থেকে দেড় লাখ রিটার্ন জমা পড়তে পারে। প্রয়োজনে সময়সীমা বাড়ানোর বিষয়টিও বিবেচনা করা হবে।
এনবিআরকে দুই ভাগে বিভক্ত করার পরিকল্পনার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “ব্যবস্থাপনা ও নীতিনির্ধারণ দুই অংশ আলাদা করার কাজ চলছে। শিগগিরই কমিটির বৈঠক, গেজেট প্রকাশ ও সাংগঠনিক কাঠামো চূড়ান্ত করা হবে। কাজটি চ্যালেঞ্জিং হলেও নির্বাচনের আগে অগ্রগতি নিশ্চিত হবে।”
বাংলাধারা/এসআর
