ঢাকা, শনিবার, ৩০ আগস্ট ২০২৫, ১৪ ভাদ্র ১৪৩২

তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিলের রায়ের বিরুদ্ধে রিভিউ শুনানি শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক

 প্রকাশিত: আগস্ট ২৬, ২০২৫, ১১:২৮ দুপুর  

ছবি: সংগৃহিত

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের বিরুদ্ধে করা রিভিউ আবেদনের শুনানি শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে এ শুনানি শুরু হয়।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) সকালে আপিল বিভাগের ছয় সদস্যের বেঞ্চে আইনজীবী শিশির মনির আবেদন জানান দ্রুত শুনানি শেষ করার জন্য। তিনি আদালতে বলেন, সামনে দীর্ঘ ছুটি শুরু হবে, কিন্তু তত্ত্বাবধায়ক সরকারের রিভিউ শুনানি এখনও শেষ হয়নি। তালিকায় থাকলেও কার্যত শুনানি হয়নি।

জবাবে প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ বলেন, “আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে পারি, তবে শুনানি শেষ করতে পারব কি না, তা নিশ্চিত নয়।” এ সময় শিশির মনির মন্তব্য করেন, “মাই লর্ড, তারিখ নির্ধারণ হলেই আপাতত একটি সমাধান হবে।” এরপর আদালত ২৬ আগস্ট শুনানির দিন ধার্য করেন।

২০১১ সালের ১০ মে আপিল বিভাগের সাত বিচারপতির পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতের ভিত্তিতে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী- অর্থাৎ তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা, বাতিল ঘোষণা করেন। হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে করা আপিল মঞ্জুর করেই এ রায় দেওয়া হয়।

পরে ২০২৩ সালের অক্টোবরে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ওই রায়ের পুনর্বিবেচনা চেয়ে আবেদন করেন। এর আগে সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারসহ পাঁচ বিশিষ্ট ব্যক্তি রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন করেন। তাঁদের মধ্যে আরও ছিলেন তোফায়েল আহমেদ, এম হাফিজউদ্দিন খান, জোবাইরুল হক ভূঁইয়া ও জাহরা রহমান। একই বছরের ২৩ অক্টোবর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ারও পুনর্বিবেচনার আবেদন করেন।

উল্লেখ্য, ১৯৯৬ সালে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা সংযোজন করা হয়। এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ১৯৯৮ সালে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এম সলিমউল্লাহসহ কয়েকজন হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন। দীর্ঘ শুনানি শেষে ২০০৪ সালের ৪ আগস্ট হাইকোর্ট ত্রয়োদশ সংশোধনীকে বৈধ ঘোষণা করেন এবং এটিকে সংবিধানসম্মত বলে রায় দেন।

বাংলাদেশে সর্বশেষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচন হয় ২০০৮ সালে। সেই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসন পেয়ে ক্ষমতায় আসে। তবে ২০১১ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল করা হয়।

বাংলাধারা/এসআর