সোমবার থেকে সেন্টমার্টিনে চলবে পর্যটকবাহী জাহাজ, মিলবে রাত্রিযাপনের সুযোগ
প্রকাশিত: নভেম্বর ৩০, ২০২৫, ১২:৪৪ দুপুর
ছবি: সংগৃহিত
আগামীকাল সোমবার (১ ডিসেম্বর) থেকে সেন্টমার্টিনগামী পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল আবারও শুরু হচ্ছে। সরকারি ১২টি নির্দেশনা মেনে চললে আগামী দুই মাস, ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত-দ্বীপে রাত্রিযাপনের সুযোগ পাবেন পর্যটকেরা।
দীর্ঘদিন নিষেধাজ্ঞা থাকার পর কক্সবাজারের নুনিয়ারছড়া ঘাট থেকে চারটি জাহাজকে চলাচলের অনুমতি দিয়েছে জেলা প্রশাসন। প্রতিদিন এগুলোতে করে প্রায় দুই হাজার পর্যটক সেন্টমার্টিনে যেতে পারবেন।
বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের অনুমোদিত অনলাইন পোর্টাল থেকে ট্রাভেল পাস ও কিউআর কোডসহ টিকিট নিতে হবে। কিউআর কোড ছাড়া কোনো টিকিট বৈধ গণ্য হবে না। প্রথম দিনের যাত্রার জন্য তিনটি জাহাজের প্রায় ১২শ টিকিট বিক্রি হয়েছে বলে জানিয়েছে জাহাজ কর্তৃপক্ষ।
‘সি ক্রুজ অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ’-এর সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম বাহাদুর বলেন, “মৌসুমের প্রথম যাত্রার জন্য সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় ভ্রমণ নিশ্চিত করতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে যদি চার মাসের জন্য রাত্রিযাপনের অনুমতি দেওয়া হয়, তবে পর্যটন খাত আরও লাভবান হবে।
দীর্ঘ বিরতির পর আবার পর্যটকদের আগমনকে কেন্দ্র করে দ্বীপে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরেছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারা পর্যটকদের বরণে প্রস্তুত।
সেন্টমার্টিনের ভারপ্রাপ্ত ইউপি চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলাম বলেন, “পর্যটনই দ্বীপবাসীর প্রধান অবলম্বন। নানা সংকটের মধ্যেও আমরা পর্যটকদের আতিথেয়তায় কোনো ঘাটতি রাখব না।”
দ্বীপের নাজুক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় এবার আরও কঠোর হচ্ছে প্রশাসন। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী—
রাতে সৈকতে আলো জ্বালানো, শব্দ সৃষ্টি ও বারবিকিউ অনুষ্ঠান নিষিদ্ধ
কেয়াবনে প্রবেশ, কেয়া ফল সংগ্রহ-বিক্রি নিষিদ্ধ
সামুদ্রিক কাছিম, পাখি, প্রবাল, শামুক-ঝিনুক ও অন্যান্য জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি হয় এমন কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা
মোটরসাইকেল, সি-বাইকসহ মোটরচালিত যান সৈকতে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ
পলিথিন ও একবার ব্যবহার্য প্লাস্টিক ব্যবহার নিরুৎসাহিত
এ বিষয়ে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক আব্দুল মান্নান বলেন, “সেন্টমার্টিন জাতীয় সম্পদ। এর জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সবাইকে সরকারি নির্দেশনা মেনে চলতে হবে।”
বাংলাধারা/এসআর
