নতুন বছরে সঞ্চয়পত্রের মুনাফা আরও কমাল সরকার
প্রকাশিত: জানুয়ারী ০১, ২০২৬, ০৪:১৭ দুপুর
ফাইল ছবি
নতুন বছরের শুরুতেই সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগকারীদের জন্য এসেছে কম মুনাফার খবর। সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১ জানুয়ারি থেকে কেনা সঞ্চয়পত্রে মেয়াদ পূর্তিতে মুনাফা মিলবে গড়ে সাড়ে ১০ শতাংশের কাছাকাছি, যা এতদিন প্রায় ১২ শতাংশ ছিল। এই নতুন সুদহার আগামী ছয় মাস, অর্থাৎ ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত কেনা সঞ্চয়পত্রে কার্যকর হবে। তবে এর আগে কেনা সঞ্চয়পত্রে গ্রাহকরা আগের মতোই মুনাফা পাবেন। এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার একটি সার্কুলার জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
একসময় দীর্ঘদিন সঞ্চয়পত্রের সুদহার অপরিবর্তিত থাকলেও গত বছরের জানুয়ারি থেকে সরকার ট্রেজারি বিল ও বন্ডের সুদহারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মুনাফা নির্ধারণ করছে। বর্তমানে ২ বছর ও ৫ বছর মেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের সর্বশেষ ছয় মাসের গড় নিলাম সুদহারকে ভিত্তি ধরে সঞ্চয়পত্রের হার নির্ধারিত হয়। সাম্প্রতিক সময়ে ট্রেজারি বিল ও বন্ডের সুদহার কমে যাওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই সঞ্চয়পত্রের মুনাফাও কমানো হয়েছে। এর আগেও গত জুলাই থেকে ডিসেম্বর সময়ের জন্য সুদহার সামান্য হ্রাস করা হয়েছিল।
বর্তমানে দেশে চার ধরনের সঞ্চয়পত্র ও পোস্ট অফিস ফিক্সড ডিপোজিট নামে সরকারের একটি সঞ্চয় স্কিম চালু রয়েছে। এসব ক্ষেত্রে সাড়ে সাত লাখ টাকা পর্যন্ত এবং এর বেশি বিনিয়োগে ভিন্ন ভিন্ন হারে মুনাফা দেওয়া হয়। একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত সঞ্চয়পত্র কিনতে পারেন। সঞ্চয়পত্রের পাশাপাশি ডাকঘর সঞ্চয় ব্যাংকের সাধারণ হিসাব এবং প্রবাসীদের জন্য তিন ধরনের বন্ডে বিনিয়োগের সুযোগ থাকলেও এসব স্কিমে সুদহার অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।
নতুন প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, এখন থেকে কেনা পাঁচ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্রে সাড়ে সাত লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগ করলে মেয়াদ শেষে মুনাফা পাওয়া যাবে ১০ দশমিক ৪৪ শতাংশ হারে, যেখানে গত জুলাই–ডিসেম্বর সময়ে তা ছিল ১১ দশমিক ৮৩ শতাংশ। একই সঞ্চয়পত্রে এর বেশি বিনিয়োগে মুনাফা কমে দাঁড়িয়েছে ১০ দশমিক ৪১ শতাংশে। তিন বছর মেয়াদি তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্রে সাড়ে সাত লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগে মুনাফা নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ দশমিক ৪৮ শতাংশ, আর এর বেশি বিনিয়োগে ১০ দশমিক ৪৩ শতাংশ। পাঁচ বছর মেয়াদি পেনশনার সঞ্চয়পত্রে সাড়ে সাত লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগে মুনাফা পাওয়া যাবে ১০ দশমিক ৫৯ শতাংশ এবং এর বেশি বিনিয়োগে ১০ দশমিক ৪১ শতাংশ। একইভাবে পাঁচ বছর মেয়াদি পরিবার সঞ্চয়পত্রে সাড়ে সাত লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগে মুনাফা হবে ১০ দশমিক ৫৪ শতাংশ এবং এর বেশি বিনিয়োগে ১০ দশমিক ৪১ শতাংশ। তিন বছর মেয়াদি পোস্ট অফিস ফিক্সড ডিপোজিট হিসাবেও সাড়ে সাত লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগে মুনাফা নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ দশমিক ৪৮ শতাংশ এবং এর বেশি বিনিয়োগে ১০ দশমিক ৪৩ শতাংশ।
প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, মেয়াদ পূর্তির আগেই সঞ্চয়পত্র ভাঙানো হলে প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ বছর শেষে মুনাফা তুলনামূলকভাবে আরও কম পাওয়া যাবে। যেসব ক্ষেত্রে নিয়মিত মুনাফার টাকা পরিশোধ করা হয়, সেখানে নির্ধারিত হারে মূল টাকার সঙ্গে সমন্বয় করা হবে।
বাংলাধারা/এসআর
