ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২২ মাঘ ১৪৩২

ছয় লাশ পোড়ানো মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার রায় আজ, ১৬ আসামির ভাগ্য নির্ধারণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

 প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ০৫, ২০২৬, ০৮:০১ সকাল  

ছবি: সংগৃহিত

জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে আশুলিয়ায় ছয় তরুণের লাশ পোড়ানোসহ মোট সাতজনকে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার রায় আজ ঘোষণা করা হবে। এ মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য সাইফুল ইসলামসহ মোট ১৬ আসামির ভাগ্য নির্ধারিত হতে যাচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় ঘোষণা করবেন। প্যানেলের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

পুনর্গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এটি তৃতীয় রায়। গত ১ ফেব্রুয়ারি মামলাটি রায়ের জন্য আজকের দিন ধার্য করেন ট্রাইব্যুনাল-২। এর মধ্য দিয়ে দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ার এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি ঘটতে যাচ্ছে।

এর আগে গত ২০ জানুয়ারি রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ (সিএভি) রাখা হয়। ওই দিন প্রসিকিউশনের পক্ষে যুক্তিখণ্ডন করেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম। আসামিপক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন স্টেট ডিফেন্সের আইনজীবী মো. আমির হোসেন, মিরাজুল আলম ও আবুল হাসান। শুনানির আগের ধাপে আসামিদের পক্ষে আইনজীবী সৈয়দ মিজানুর রহমানও অংশ নেন।

এ মামলার ১৬ আসামির মধ্যে বর্তমানে আটজন গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। তারা হলেন, ঢাকা জেলার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. আব্দুল্লাহিল কাফী, সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাভার সার্কেল) মো. শাহিদুল ইসলাম, ডিবির তৎকালীন পরিদর্শক আরাফাত হোসেন, এসআই মালেক, এসআই আরাফাত উদ্দিন, এএসআই কামরুল হাসান, এসআই শেখ আবজালুল হক ও কনস্টেবল মুকুল।

গত বছরের ২১ আগস্ট ট্রাইব্যুনাল আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। সে সময় উপস্থিত আট আসামির মধ্যে সাতজন নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন। তবে এসআই শেখ আবজালুল হক দোষ স্বীকার করে রাজসাক্ষী হিসেবে আদালতে জবানবন্দি দেন। মামলার বিচার প্রক্রিয়ায় তদন্ত কর্মকর্তা জানে আলম খানসহ মোট ২৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়েছে।

এরও আগে, একই বছরের ২ জুলাই প্রসিকিউশনের দাখিল করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল। অভিযোগপত্রের সঙ্গে অন্যান্য তথ্যসূত্র হিসেবে ৩১৩ পৃষ্ঠার নথি, ৬২ জন সাক্ষীর তালিকা, ১৬৮ পৃষ্ঠার দালিলিক প্রমাণ এবং দুটি পেনড্রাইভ সংযুক্ত করা হয়।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সাভারের আশুলিয়ায় আন্দোলন চলাকালে পুলিশের গুলিতে ছয় তরুণ নিহত হন। পরে পুলিশ ভ্যানে তুলে তাদের লাশ আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, এ নৃশংস ঘটনার সময় একজন তরুণ জীবিত ছিলেন এবং তার শরীরে পেট্রোল ঢেলে তাকেও পুড়িয়ে হত্যা করা হয়। এর আগের দিন আরও একজন আন্দোলনকারী নিহত হন। এসব ঘটনায় একই বছরের ১১ সেপ্টেম্বর মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলাটি দায়ের করা হয়।

এই রায়ের দিকে তাকিয়ে রয়েছে ভুক্তভোগী পরিবার, মানবাধিকারকর্মী ও দেশবাসী। বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা হবে, এমন প্রত্যাশাই সবার।

বাংলাধারা/এসআর