ঈদের পর বাজারে স্বস্তি: কমেছে সবজির দাম, মাছের বাজারে অস্থিরতা
প্রকাশিত: মার্চ ২৭, ২০২৬, ০১:২১ দুপুর
ছবি: সংগৃহিত
ঈদুল ফিতরের পর রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচাবাজারে গ্রীষ্মকালীন সবজির দামে স্বস্তি ফিরেছে। বেশিরভাগ সবজির দাম কমলেও মাছের বাজারে তেমন কোনো স্বস্তি নেই। একই সঙ্গে ব্রয়লার মুরগির দামও কিছুটা কমেছে।
শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
বাজারে গিয়ে দেখা যায়, গ্রীষ্মকালীন সবজির সরবরাহ বাড়ায় দাম কমতে শুরু করেছে। বরবটি কেজিতে প্রায় ৪০ টাকা কমে এখন বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকায়। বেগুন প্রকারভেদে ৫০ থেকে ৮০ টাকা, কচুরলতি ৭০ থেকে ৮০ টাকা, করলা ৫০ থেকে ৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ঢেঁড়সের দাম কেজিতে ৪০ টাকা কমে দাঁড়িয়েছে ৬০ টাকায়, আর পটল ২০ টাকা কমে বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকায়।
এ ছাড়া কচুরমুখি ৮০ থেকে ১০০ টাকা, সজনে ডাটা ৮০ থেকে ১০০ টাকা এবং ধুন্দল ৬০ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কাঁচা মরিচের দাম কিছুটা বেশি থাকলেও তা ৮০ থেকে ১০০ টাকার মধ্যেই রয়েছে। পেঁপে ও মিষ্টি কুমড়া বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকায়। দেশি শসার দাম কেজিতে ৪০ টাকা কমে এখন ৪০ থেকে ৫০ টাকায় নেমে এসেছে, আর হাইব্রিড শসা বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকায়।
লেবুর বাজারেও কিছুটা স্বস্তি মিলেছে, এক হালি লেবু বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৪০ টাকায়।
তবে কিছু শীতকালীন সবজির দাম বেড়েছে। শিম কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে ৬০ থেকে ৭০ টাকা, টমেটো ৩০ থেকে ৫০ টাকা, দেশি গাজর ৪০ থেকে ৫০ টাকা এবং মুলা ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ফুলকপি বড় সাইজে প্রতি পিস ৪০ টাকা, বাঁধাকপি ৩০ টাকা এবং লাউ ৪০ থেকে ৬০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।
এদিকে আলুর দাম কিছুটা বেড়েছে। নতুন আলু কেজিতে ৫ টাকা বেড়ে এখন বিক্রি হচ্ছে ২৫ টাকায়। তবে পেঁয়াজের বাজার স্থিতিশীল রয়েছে, দেশি পেঁয়াজ ৩০ থেকে ৩৫ টাকা এবং পেঁয়াজকলি ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
মুরগির বাজারে দেখা গেছে, ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিতে ৪০ টাকা কমে ১৯০ টাকায় নেমে এসেছে। সোনালি কক মুরগি ৪০০ টাকা এবং সোনালি হাইব্রিড ৩৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। লাল লেয়ার ৩৩০ টাকা, সাদা লেয়ার ৩২০ টাকা এবং দেশি মুরগি প্রায় ৭০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
গরুর মাংস ৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। পাশাপাশি গরুর কলিজা ৮০০ টাকা, মাথার মাংস ৪৫০ টাকা এবং খাসির মাংস ১২০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
অন্যদিকে মাছের বাজারে তেমন কোনো স্বস্তি নেই, বরং কিছু ক্ষেত্রে দাম বেড়েছে। ইলিশ মাছের দাম কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী, ছোট আকারের (৩০০ গ্রাম) ইলিশ ১২০০ থেকে ১৪০০ টাকা এবং বড় (৫০০ গ্রাম) ইলিশ ১৮০০ থেকে ২০০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এ ছাড়া রুই মাছ ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, মৃগেল ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, পাঙ্গাস ১৭০ থেকে ২০০ টাকা, চিংড়ি ৮০০ থেকে ১৪০০ টাকা এবং বোয়াল মাছ ৬০০ থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দেশি মাগুর ৮০০ থেকে ১০০০ টাকা, শিং মাছ ৩৫০ থেকে ৫৫০ টাকা এবং দেশি শিং ১০০০ থেকে ১২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এছাড়া তেলাপিয়া ২০০ টাকা, কৈ মাছ ২০০ থেকে ২২০ টাকা, টেংরা ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, কাচকি ৫০০ টাকা এবং বাতাসি মাছ ১৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
ডিমের বাজারে এক ডজন লাল ডিম ১১০ থেকে ১২০ টাকা, হাঁসের ডিম ২০০ টাকা, দেশি মুরগির ডিমের হালি ১০০ টাকা এবং সোনালি মুরগির ডিমের হালি ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, ঈদের পর সবজির বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও মাছ ও অন্যান্য নিত্যপণ্যের দামে সেই স্বস্তি পুরোপুরি ফিরে আসেনি, যা ভোক্তাদের জন্য এখনও কিছুটা চাপের কারণ হয়ে রয়েছে।
বাংলাধারা/এসআর
