ঢাকা, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬, ১৩ চৈত্র ১৪৩২

কিবরিয়া হত্যার নেপথ্যে রাজনৈতিক আধিপত্য ও চাঁদাবাজি, জড়িত ৬-৭ জন

নিজস্ব প্রতিবেদক

 প্রকাশিত: মার্চ ২৭, ২০২৬, ০৩:৩১ দুপুর  

ছবি: সংগৃহিত

ঢাকার মিরপুরের পল্লবীতে যুবদল নেতা গোলাম কিবরিয়া হত্যাকাণ্ডের পেছনে রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তার ও চাঁদাবাজির বিরোধকে প্রধান কারণ হিসেবে দেখছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। আলোচিত এই কিলিং মিশনে সরাসরি ও পরোক্ষভাবে ছয় থেকে সাতজন জড়িত ছিল বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।

শুক্রবার (২৭ মার্চ) রাজধানীর মিরপুরে র‌্যাব-৪ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে কোম্পানি কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শাহাবুদ্দিন কবির এসব তথ্য জানান।

তিনি বলেন, সম্প্রতি গ্রেপ্তার হওয়া দুই শ্যুটার মো. রাশেদ ওরফে লোপন (৩৫) এবং মো. জাহাঙ্গীর হোসেন ওরফে কাল্লু (৪০) সরাসরি হত্যাকাণ্ডে অংশ নিয়েছিল। তাদের কাছ থেকে একটি বিদেশি রিভলবার ও তিন রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। হত্যার পর তারা অবৈধভাবে দেশ ছাড়ার চেষ্টা করলেও সীমান্তে কড়াকড়ির কারণে ব্যর্থ হয়। পরে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে তারা বৈধভাবে বিদেশে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল।

র‌্যাব জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে পৃথক অভিযানে মিরপুরের রূপনগর ইস্টার্ন হাউজিং এলাকা থেকে লোপন এবং উত্তরা দিয়াবাড়ি এলাকা থেকে কাল্লুকে গ্রেপ্তার করা হয়। লোপনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তার বাসা থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।

জিজ্ঞাসাবাদে লোপন জানিয়েছে, রিভলবারটিতে মোট ছয় রাউন্ড গুলি থাকার কথা থাকলেও তিনটি পাওয়া গেছে। ঘটনার সময় সে দুটি গুলি কিবরিয়ার দিকে ছোড়ে এবং একটি ফাঁকা গুলি ছুড়ে আশপাশের লোকজনকে ছত্রভঙ্গ করে।

র‌্যাবের তথ্যমতে, কিলিং মিশনে সরাসরি তিনজন শ্যুটার অংশ নেয়। এর মধ্যে জনি নামে একজন ঘটনাস্থলেই ধরা পড়ে, আর বাকি দুইজন সম্প্রতি গ্রেপ্তার হয়েছে। এছাড়া অভিযানে সহায়তার জন্য একটি ‘রেসকিউ টিম’ ছিল, যার নেতৃত্বে ছিল ‘ভাগিনা মাসুম’। অস্ত্র সরবরাহ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেন ‘পাতা সোহেল’। আর কিবরিয়ার গতিবিধি নজরদারির দায়িত্বে ছিল সুজন।

হত্যার উদ্দেশ্য সম্পর্কে শাহাবুদ্দিন কবির বলেন, প্রাথমিকভাবে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, মিরপুর এলাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী মশিউর রহমান মশির সঙ্গে গ্রেপ্তারদের যোগাযোগ ছিল। কিবরিয়া পল্লবী থানা যুবদলের সদস্যসচিব হিসেবে এলাকায় প্রভাবশালী হয়ে উঠছিলেন এবং ভবিষ্যতে বড় রাজনৈতিক পদে যাওয়ার সম্ভাবনা ছিল। অন্যদিকে মশি বিভিন্ন অবৈধ ব্যবসা ঝুট, হাউজিং, ডেভেলপার ও ফুটপাতের চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণ করতেন। এসব কার্যক্রমে কিবরিয়া বাধা হয়ে দাঁড়ানোয় তাকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়।

উল্লেখ্য, গত বছরের ১৭ নভেম্বর সন্ধ্যায় মিরপুর-১২ নম্বরের বি ব্লকের ‘বিক্রমপুর হার্ডওয়্যার অ্যান্ড স্যানিটারি’ দোকানে ঢুকে মুখোশধারী সন্ত্রাসীরা কাছ থেকে গুলি করে কিবরিয়াকে হত্যা করে। পালানোর সময় অটোরিকশা চালককে গুলি করে আহত করে দুর্বৃত্তরা।

এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী সাবিহা আক্তার দীনা পল্লবী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় পাঁচজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও সাত-আটজনকে আসামি করা হয়। ঘটনার দিনই জনি নামে এক শ্যুটারকে স্থানীয়রা আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। পরদিন র‌্যাব আরও দুজন আসামিকে গ্রেপ্তার করে।

র‌্যাব জানিয়েছে, এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

বাংলাধারা/এসআর