প্রকাশিত: ৫৬ মিনিট আগে, ১০:৫৯ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
কলকাতার নিউ মার্কেট এলাকার ফ্রি স্কুল স্ট্রিটের একটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে এক শিশুসহ ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহত সবাই বাংলাদেশের নাগরিক বলে জানিয়েছে কলকাতা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস। চিকিৎসার জন্য তারা কলকাতায় গিয়েছিলেন বলে জানা গেছে।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) গভীর রাতে ফ্রি স্কুল স্ট্রিটের ওই হোটেলে আগুনের সূত্রপাত হয়। পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক ধারণা, হোটেলের একটি এসি বিস্ফোরণ থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। তবে আগুন লাগার প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে তদন্ত চলছে।
ঘনবসতিপূর্ণ নিউ মার্কেট এলাকায় আগুন লাগার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে কলকাতা ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট। আগুন নেভানোর পাশাপাশি শুরু হয় হোটেলের ভেতরে আটকে পড়া অতিথিদের উদ্ধারের চেষ্টা। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের দুর্যোগ মোকাবিলা বিভাগের একটি দলও উদ্ধারকাজে ফায়ার সার্ভিসের সঙ্গে যোগ দেয়।
ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তারা জানান, হোটেলের তৃতীয় তলায় আগুন ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনাস্থলের সরু গলির কারণে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি হোটেলের কাছাকাছি নেওয়া সম্ভব হয়নি। ফলে বাইরে থেকেই আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজ শুরু করতে হয়। আগুন কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসার পর ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা হোটেলের ভেতরে প্রবেশ করে উদ্ধার অভিযান চালান।
নিউ মার্কেট থানার এক পুলিশ কর্মকর্তা ভারতীয় বার্তা সংস্থা পিটিআইকে জানান, আগুন লাগার পর হোটেলের কক্ষগুলো ঘন ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। ফলে উদ্ধারকাজে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের ব্যাপক বেগ পেতে হয়। বিভিন্ন কক্ষ থেকে অচেতন অবস্থায় বেশ কয়েকজন অতিথিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক ৯ জনকে মৃত ঘোষণা করেন।
পুলিশ জানিয়েছে, নিহতদের শরীরে আগুনে পুড়ে যাওয়ার স্পষ্ট কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ঘন ধোঁয়ার কারণে শ্বাসরোধ হয়ে তাদের মৃত্যু হয়েছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
নিহতদের সবাই বাংলাদেশি নাগরিক হওয়ায় ঘটনাটি নিয়ে বাংলাদেশ ও কলকাতায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তারা চিকিৎসার উদ্দেশ্যে কলকাতায় গিয়ে ওই হোটেলে অবস্থান করছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। নিহতদের পরিচয় ও স্বজনদের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
এদিকে, মাত্র দুই দিন আগে পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার তারাপীঠ শহরের ‘বিদেশিনী’ হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত আটজন নিহত হন। প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে ওই আগুনের সূত্রপাত হয়েছিল বলে জানা যায়।
তার রেশ কাটতে না কাটতেই কলকাতার একটি হোটেলে ফের প্রাণঘাতী অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটল। পরপর দুটি ঘটনায় পশ্চিমবঙ্গের হোটেল ও পর্যটনকেন্দ্রগুলোর অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
বাংলাধারা/শারমিন
মন্তব্য করুন