প্রকাশিত: ২ ঘন্টা আগে, ০১:৪৯ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
সিলেট নগরীর রায়নগর মিতালী আবাসিক এলাকায় চাঞ্চল্যকর ট্রিপল মার্ডারের ঘটনায় গ্রেপ্তার বাবুল মিয়া আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সন্ধ্যায় সিলেটের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ফারহানা সুলতানার আদালতে তিনি এ জবানবন্দি দেন। জবানবন্দি রেকর্ড শেষে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের কোর্ট ইন্সপেক্টর পুলিশ পরিদর্শক সৈয়দ মাহবুবুর রহমান।
এর আগে চার দিনের রিমান্ড শেষে বৃহস্পতিবার দুপুরে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে বাবুল মিয়াকে আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় তিনি স্বেচ্ছায় ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিতে সম্মত হন।
গত ১২ আগস্ট সকালে নগরীর রায়নগর মিতালী আবাসিক এলাকার ১১১ নম্বর বাসার দোতলা থেকে আব্দুস সাত্তার (৮২), তার স্ত্রী সুরাইয়া বেগম (৭২) ও গৃহকর্মী তাহমিনা বেগমের (১৫) গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই দিনই বাবুল মিয়াকে আটক করা হয়। পরদিন ঘটনাস্থলের পাশের একটি স্থান থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছোরাও উদ্ধার করে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গৃহকর্মী তাহমিনার সঙ্গে বাবুলের গত ১৫ থেকে ২০ দিন ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। ঘটনার দিন সকাল ৯টা ২৫ মিনিট থেকে ৯টা ৩৫ মিনিটের মধ্যে বাবুল ওই বাড়িতে প্রবেশ করেন। তাহমিনা দরজা খুলে তাকে ভেতরে নেওয়ার পর দরজা ভেতর থেকে আটকে দেন। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হলে বাবুল ছুরি দিয়ে তাহমিনাকে আঘাত করেন।
এ সময় গৃহকর্ত্রী সুরাইয়া বেগম সেখানে গেলে তাকেও ছুরিকাঘাত করা হয়। চিৎকার শুনে গৃহকর্তা আব্দুস সাত্তার এগিয়ে এসে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে তার সঙ্গে বাবুলের ধস্তাধস্তি হয়। পরে তাকেও হত্যা করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে। হত্যাকাণ্ডের পর বাবুল বারান্দা দিয়ে লাফিয়ে পালিয়ে যান। তবে এ ঘটনায় নিহত দম্পতির মেয়ে সেলিনা সুলতানার দায়ের করা এজাহারে বাবুল মিয়ার নাম উল্লেখ করা হয়নি। গত ১৪ আগস্ট রাতে কোতোয়ালি থানায় দায়ের করা ওই এজাহারে আইনজীবী ও ইম্পালস বিল্ডার্স লিমিটেডের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলামের সম্পৃক্ততার সন্দেহ প্রকাশ করা হয়।
এজাহারে সেলিনা সুলতানা উল্লেখ করেন, দীর্ঘদিনের জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে পূর্বপরিকল্পিতভাবে ভাড়াটে খুনিদের দিয়ে তার বাবা, মা ও গৃহকর্মীকে হত্যা করা হয়েছে।
এর আগে গত ১৬ আগস্ট বাবুল মিয়াকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে হাজির করে পুলিশ। এ সময় তার ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হলে শুনানি শেষে আদালত চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ড শেষে বৃহস্পতিবার তাকে আদালতে হাজির করা হয় এবং তিনি ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
বাংলাধারা/ডেস্ক
মন্তব্য করুন