প্রকাশিত: ১ ঘন্টা আগে, ০৮:৪৬ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
দেশের ঘরোয়া ফুটবলের নতুন মৌসুম শুরুর আগেই বড় ধরনের অনিশ্চয়তায় পড়েছে দুই জায়ান্ট ঢাকা আবাহনী ও বসুন্ধরা কিংস। ফিফার নিষেধাজ্ঞার কারণে দল গোছানো ও খেলোয়াড় নিবন্ধন নিয়ে দু’ক্লাবই চাপে রয়েছে। এর মধ্যে বসুন্ধরা কিংসের নিষেধাজ্ঞার সংখ্যা কিছুটা কমলেও ঢাকা আবাহনীর শেষ নিষেধাজ্ঞা এখনো না কাটায় তাদের সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে।
বসুন্ধরা কিংসের ওপর একসময় ফিফার মোট ১৪টি নিষেধাজ্ঞা ছিল। গত পরশু একটি এবং গতকাল আরও তিনটি নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার হওয়ায় বর্তমানে সেই সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ১০টিতে। তবে নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি কাটিয়ে উঠতে এখনো বেশ কিছু পথ পাড়ি দিতে হবে ক্লাবটিকে।
অন্যদিকে, ঢাকা আবাহনীর ওপর থাকা একমাত্র নিষেধাজ্ঞাটিই এখন তাদের জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সিরিয়ার এক ফুটবলারের পাওনা পরিশোধ নিয়ে জটিলতার জেরে ফিফার নিষেধাজ্ঞায় পড়েছিল দেশের ঐতিহ্যবাহী ক্লাবটি। সমস্যা সমাধানে খেলোয়াড়ের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছে পাওনা অর্থও পাঠিয়েছে আবাহনী। এরপর দ্রুত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার হবে বলে আশাবাদী ছিলেন ক্লাবটির কর্মকর্তারা। কিন্তু প্রায় এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার না হওয়ায় নতুন করে দুশ্চিন্তায় পড়েছে আবাহনী।
ক্লাবটির কর্মকর্তা সত্যজিৎ দাশ রুপু বলেন, খেলোয়াড়ের দেওয়া ব্যাংক হিসাবের তথ্য অনুযায়ী সংযুক্ত আরব আমিরাতে অর্থ পাঠানো হয়েছে। তবে খেলোয়াড় দাবি করছেন, এখনো তার অ্যাকাউন্টে টাকা জমা হয়নি। আবাহনীর পক্ষ থেকে অর্থ পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করা হলেও অর্থপ্রাপ্তির জটিলতার কারণে ফিফার কাছে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আবেদন করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে সময়ও দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) ক্লাব লাইসেন্সিংয়ের সময়সীমা ১৭ আগস্ট পর্যন্ত বাড়িয়েছে। এর মধ্যে ফিফা ও সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক দপ্তরগুলোতে ছুটির কারণে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া আরও বিলম্বিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে আবাহনীর সামনে এখন সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে সমস্যা সমাধানের চ্যালেঞ্জ।
তবে পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হবে বলে আশাবাদী আবাহনীর কর্মকর্তারা। খেলোয়াড় ও তার আইনজীবীর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে ক্লাব কর্তৃপক্ষ। অর্থ স্থানান্তরের জটিলতা মিটিয়ে দ্রুত ফিফার নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আবেদন করা যাবে বলে আশা তাদের।
সবচেয়ে বড় চাপ তৈরি হয়েছে খেলোয়াড় নিবন্ধন নিয়ে। আগামী ১৯ আগস্ট খেলোয়াড় নিবন্ধনের শেষ দিন। তার আগে ফিফার নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে ক্লাব লাইসেন্স সম্পন্ন করা এবং নতুন খেলোয়াড় নিবন্ধন—দুটিই আবাহনীর জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। শুধু নিষেধাজ্ঞা কাটানোই নয়, এর পাশাপাশি দল গঠনের কাজও এগিয়ে নিতে হবে ক্লাবটিকে। কিন্তু এখন পর্যন্ত নতুন করে খেলোয়াড়দের সঙ্গে কোনো চুক্তি করতে পারেনি আবাহনী। ফলে মাঠের বাইরের সংকটের পাশাপাশি দল গঠন নিয়েও অনিশ্চয়তা বাড়ছে।
তুলনামূলকভাবে বসুন্ধরা কিংসের অবস্থা কিছুটা স্বস্তিদায়ক হলেও তারাও পুরোপুরি সংকটমুক্ত নয়। তাদের ওপর এখনো ১০টি ফিফা নিষেধাজ্ঞা বহাল রয়েছে। তবে নিষেধাজ্ঞা থাকা অবস্থাতেই রাকিব, তপু বর্মণসহ কয়েকজন খেলোয়াড়ের সঙ্গে চুক্তি করেছে ক্লাবটি। ফলে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও খেলোয়াড় নিবন্ধনের সময়সীমার মধ্যে প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে না পারলে তাদেরও সমস্যায় পড়তে হতে পারে।
নতুন মৌসুমের সূচিও এখন প্রশ্নের মুখে। আগামী ২১ আগস্ট ঢাকা আবাহনী ও বসুন্ধরা কিংসের মধ্যকার চ্যালেঞ্জ কাপ ম্যাচ দিয়ে ঘরোয়া ফুটবলের নতুন মৌসুম শুরুর কথা ছিল। ম্যাচের আর মাত্র কয়েক দিন বাকি থাকলেও আবাহনী এখনো দলীয় ক্যাম্পই শুরু করতে পারেনি। বসুন্ধরা কিংসের অবস্থাও খুব একটা স্বস্তিদায়ক নয়। ফলে নির্ধারিত সময়ে দুই জায়ান্টের লড়াই মাঠে গড়াবে কি না, তা নিয়েই তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।
এ অবস্থায় ২১ আগস্টের চ্যালেঞ্জ কাপ পিছিয়ে যেতে পারে এবং আগামী ২৫ আগস্ট ফেডারেশন কাপ দিয়ে নতুন মৌসুম শুরু হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি বলে মনে করা হচ্ছে। শেষ পর্যন্ত কী হয়, তা নির্ভর করছে দুই ক্লাবের নিষেধাজ্ঞা, লাইসেন্সিং এবং খেলোয়াড় নিবন্ধনের জটিলতা কত দ্রুত মেটে তার ওপর।
ঘরোয়া ফুটবলের দুই শক্তিশালী দলের এমন পরিস্থিতি নতুন মৌসুমের শুরুতেই বড় প্রশ্ন তৈরি করেছে। বিশেষ করে আবাহনীর জন্য এখন প্রতিটি দিনই গুরুত্বপূর্ণ। নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, ক্লাব লাইসেন্স সম্পন্ন, খেলোয়াড় নিবন্ধন এবং দল গঠন, সবকিছুই করতে হবে খুব অল্প সময়ের মধ্যে। সময়ের এই দৌড়ে আবাহনী শেষ পর্যন্ত কতটা সফল হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
বাংলাধারা/শারমিন
মন্তব্য করুন