বাংলাধারা রিপোর্ট

প্রকাশিত: ৯ ঘন্টা আগে, ০২:৫২ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

বাজারে মিলছে না স্বস্তি, চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে মাছ, মুরগি ও সবজি

ছবি: সংগৃহিত

রাজধানীর নিত্যপণ্যের বাজারে এখনো স্বস্তির দেখা নেই। সপ্তাহজুড়ে বড় ধরনের মূল্য পরিবর্তন না হলেও অধিকাংশ পণ্যের দাম উচ্চ পর্যায়েই রয়েছে। ফলে বাজার করতে গিয়ে বাড়তি ব্যয়ের চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষ। কাঁচাবাজার, মাছ ও মুরগির বাজার- সবখানেই ক্রেতাদের একই চিত্রের মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

শুক্রবার (২৬ জুন) সকালে রাজধানীর উত্তরা সমবায় বাজার ঘুরে দেখা যায়, আগের সপ্তাহের তুলনায় মুরগির দামে তেমন কোনো পরিবর্তন হয়নি। ব্রয়লার মুরগি কেজিপ্রতি ১৬০ থেকে ১৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সোনালী মুরগির দাম ৩০০ টাকা, লেয়ার মুরগি ৩৪০ থেকে ৩৫০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকা কেজি।

বাজার করতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী এনামুল হাসান বলেন, সংসারের মাসিক বাজেট আগের মতো ধরে রাখা এখন প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। আগে সপ্তাহে অন্তত এক-দুদিন ভালো মাছ কিংবা মাংস কেনা যেত, এখন প্রতিটি কেনাকাটার আগে হিসাব-নিকাশ করতে হচ্ছে। একসময় সাশ্রয়ী হিসেবে পরিচিত মুরগিও এখন অনেক পরিবারের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে।

অন্যদিকে গরু ও খাসির মাংসের বাজারে কিছুটা স্থিতিশীলতা দেখা গেলেও দাম এখনো অনেকের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে। গরুর মাংস কেজিপ্রতি ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকা এবং খাসি বা ছাগলের মাংস ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মাছের বাজারেও স্বস্তি নেই। বিশেষ করে ইলিশের দাম এখনও বেশ চড়া। আকারভেদে ইলিশ কেজিপ্রতি ১ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার ৭০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। উচ্চমূল্যের কারণে অনেক ক্রেতাই বড় ইলিশের পরিবর্তে ছোট আকারের মাছ কিনতে বাধ্য হচ্ছেন।

মাছ বিক্রেতা জামাল হোসেন জানান, মৌসুম হওয়ায় বাজারে ইলিশের সরবরাহ রয়েছে। তবে দাম বেশি থাকায় অনেক ক্রেতা কিনতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। যারা কিনছেন, তারাও তুলনামূলক ছোট আকারের ইলিশ বেছে নিচ্ছেন।

বাজারে পাঙ্গাস মাছ ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। বড় রুই ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা, মাঝারি রুই ২৫০ থেকে ২৭০ টাকা, কাতলা ২৫০ থেকে ৩৫০ টাকা, পাবদা ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা, গলদা চিংড়ি ৬৫০ থেকে ৭৫০ টাকা এবং শিং মাছ ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।

এ ছাড়া কাঁচকি মাছ ৩০০ টাকা এবং মলা মাছ ২৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। সামুদ্রিক মাছের মধ্যেও দাম তুলনামূলক বেশি। বড় সাইজের সুরমা মাছ ৩০০ টাকা, রুপচাঁদা ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, লাল কোরাল ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা এবং বাটা মাছ ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

কাঁচাবাজারে প্রায় সব ধরনের সবজির দামই এখনও বেশি। অধিকাংশ সবজি ৫০ থেকে ৮০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। গোলআলু, টমেটো, বেগুন, করলা, পটল, লাউ, শসা, গাজর, ফুলকপি, বরবটি, চিচিঙ্গা, ঝিঙ্গা, কচুর লতি, ঢেঁড়শসহ বিভিন্ন ধরনের সবজির দাম আগের সপ্তাহের মতোই চড়া রয়েছে।

সবজি বিক্রেতা মো. রফিক বলেন, পাইকারি বাজারে দাম কমেনি। ফলে খুচরা পর্যায়েও কম দামে বিক্রি করার সুযোগ নেই।

বর্তমানে ঢেঁড়শ, পটল, ঝিঙ্গা, করলা ও চিচিঙ্গা ৬০ থেকে ৮০ টাকা, বরবটি ৭০ থেকে ৮০ টাকা এবং কাঁচকলা প্রতি হালি ৩৫ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পেঁয়াজের দাম ৫০ থেকে ৬০ টাকা, কাঁচা পেঁপে ৩০ থেকে ৪০ টাকা, গাজর ১০০ থেকে ১২০ টাকা, কচুর লতি ৭০ টাকা এবং শিম ১৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

সরকারি সংস্থা ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) সর্বশেষ বাজারদর বিশ্লেষণেও একই চিত্র উঠে এসেছে। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, গত এক সপ্তাহে রাজধানীর খুচরা বাজারে মোটা চাল, খোলা সয়াবিন তেল, আমদানি করা রসুন, হলুদ, আদা, ব্রয়লার মুরগি, বেগুন, আলু, দেশি পেঁয়াজ, দেশি রসুন, কাঁচামরিচ ও শসার দাম বেড়েছে। তবে অন্যান্য বেশিরভাগ নিত্যপণ্যের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে দীর্ঘদিন ধরে উচ্চমূল্য বজায় থাকায় সাধারণ মানুষের ব্যয়ভার ক্রমেই বাড়ছে। বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও দামে কাঙ্ক্ষিত স্বস্তি না ফেরায় ভোগান্তি কমার কোনো লক্ষণ আপাতত দেখা যাচ্ছে না।


বাংলাধারা/শারমিন

মন্তব্য করুন