বাংলাধারা রিপোর্ট

প্রকাশিত: ৪ ঘন্টা আগে, ০২:৫১ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

সব উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে ছয় মাসের মধ্যে অনলাইনে নকশা অনুমোদনের নির্দেশ

ছবি: সংগৃহিত

দেশের সব উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে আগামী ছয় মাসের মধ্যে অনলাইনে ভবন নকশা অনুমোদনের কার্যক্রম চালুর নির্দেশ দিয়েছে সরকার। রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ-রাজউক-এর আদলে এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করতে হবে এবং তাদের ব্যবহৃত সফটওয়্যার অনুসরণ করেই ডিজিটাল সেবা চালুর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

গত ১ জুন সচিবালয়ে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা–সংক্রান্ত এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নজরুল ইসলাম। সভার কার্যবিবরণী সূত্রে জানা গেছে, নাগরিক সেবা সহজ করা এবং প্রক্রিয়াগত জটিলতা কমানোর লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ।

বর্তমানে রাজউকে ভবন নির্মাণ অনুমোদন প্রক্রিয়া ওয়ান স্টপ সার্ভিস (ওএসএস) প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে অনলাইনে পরিচালিত হচ্ছে, যেখানে নির্ধারিত সময়সীমা ২৪ কার্যদিবস। পাশাপাশি ইলেকট্রনিক কনস্ট্রাকশন পারমিট সিস্টেম (ইসিপিএস) ব্যবহার করে প্রকল্পভুক্ত এলাকায় ভূমি ব্যবহার ছাড়পত্র শতভাগ অনলাইনে দেওয়ার ব্যবস্থাও চালু রয়েছে। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, অন্যান্য উন্নয়ন কর্তৃপক্ষগুলোও একই পদ্ধতিতে তাদের কার্যক্রম ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসবে।

কার্যবিবরণীতে আরও বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট এস্টেট ও ভূমি শাখার কর্মকর্তাদের আগামী দুই মাসের মধ্যে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করতে হবে, যাতে নতুন ব্যবস্থাটি দ্রুত কার্যকরভাবে চালু করা যায়। এর ফলে নাগরিকদের অফিসে উপস্থিতির প্রয়োজন কমবে এবং সেবা পাওয়ার সময়ও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে।

এদিকে, রাজউকের সেবাকে আরও সহজ ও স্বচ্ছ করতে একটি স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে ১১ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে, যা ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে।

সভায় গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের এবং প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা বলেন, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বাস্তবায়নে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জবাবদিহির আওতায় আনা হবে।

বর্তমানে মন্ত্রণালয়ের অধীনে ১২টি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ রয়েছে, যার মধ্যে ছয়টি পুরোনো এবং ছয়টি নতুন। পুরোনোগুলোর মধ্যে রয়েছে রাজধানী, চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী, কক্সবাজার ও গাজীপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ। নতুন সংস্থাগুলো হলো সিলেট, ময়মনসিংহ, বরিশাল, কুমিল্লা, রংপুর ও নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, অনলাইনভিত্তিক এই ব্যবস্থা চালু হলে আবেদন থেকে অনুমোদন পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বাড়বে, সময় ও ব্যয় কমবে এবং নাগরিক হয়রানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।


বাংলাধারা/এসআর

মন্তব্য করুন