৪৭তম বিসিএস লিখিত পরীক্ষার বর্জন ঘোষণা:
নতুন সময়সূচি না দেওয়ায় আন্দোলনের পর শিক্ষার্থীদের কঠোর সিদ্ধান্ত
প্রকাশিত: নভেম্বর ২৬, ২০২৫, ০৬:৩৬ বিকাল
ছবি: সংগৃহিত
৪৭তম বিসিএস লিখিত পরীক্ষার সময়সূচি পরিবর্তন এবং সময় বৃদ্ধি না করার কারণে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা বর্জনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বুধবার (২৬ নভেম্বর) বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তারা এই ঘোষণা দেন।
পরীক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, যথেষ্ট প্রস্তুতির সুযোগ না দেওয়া, পুরনো ও নতুন পরীক্ষার্থীর মধ্যে বৈষম্যমূলক পরিস্থিতি সৃষ্টি এবং আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর দমন-পীড়নের কারণে তাদের ন্যায্য দাবি উপেক্ষিত হয়েছে। এতে বহু শিক্ষার্থী লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার মতো অবস্থায় নেই। তাই ‘মানবিক বিবেচনা’ থেকে পরীক্ষাটি পিছিয়ে নেওয়ার আহ্বান ন্যায্য গুরুত্ব না পায়- এ কারণে তারা পরীক্ষা বর্জনের সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে ৪৭তম বিসিএস পরীক্ষার্থী ব্যানারের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন সাইফ মুরাদ। তিনি বলেন, “আমাদের আন্দোলনের প্রকৃত চিত্র অনেকেরই জানা নেই। জনদুর্ভোগের অভিযোগ সত্য নয়। পরীক্ষায় অস্বাভাবিকভাবে কম উপস্থিতি দেখা দিলে পরবর্তী সময়ে পুনরায় আন্দোলনের পরিকল্পনা রয়েছে।”
সাইফ মুরাদ জানান, গত ৩০ দিনেরও বেশি সময় ধরে তারা পিএসসি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করেছেন। আন্দোলনকারীরা একাধিকবার হামলার শিকার হলেও মানুষকে আন্দোলনের খবর পৌঁছাতে অনেক সময় লাগেনি। “দেয়ালের পিঠে ঠেকে যাওয়ায় শেষ মুহূর্তে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য কার্যক্রম নিতে হয়েছে। এতে কিছু ভোগান্তি হয়েছে- এর জন্য আমরা ক্ষমাপ্রার্থী,” বলেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, “দেশে এমন সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে যেখানে শক্তিশালীদের দাবি-দাওয়া অযৌক্তিকভাবে মেনে নেওয়া হয়। আমাদের দাবি ছিল শুধু লিখিত পরীক্ষার সময় বৃদ্ধি, যাতে নতুন পরীক্ষার্থীরাও প্রস্তুতির সুযোগ পায় এবং পুরনো পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় বৈষম্যে না পড়েন।”
লিখিত পরীক্ষার রুটিন প্রসঙ্গে তিনি জানান, পুরনো পরীক্ষার্থীরা মাত্র তিন মাস আগে আরেকটি পরীক্ষা দিয়েছেন, তাই তারা প্রস্তুত থাকতে পারেন। কিন্তু নতুন পরীক্ষার্থীদের জন্য পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নেয়া অসম্ভব। এ অবস্থাকে তিনি ‘বৈষম্যমূলক পরিস্থিতি’ হিসেবে অভিহিত করেন।
এছাড়া, আন্দোলনের সময়ে ৪০-৫০ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন; কারও মাথায় ১০টিরও বেশি সেলাই পড়েছে। আহত অবস্থায় পরীক্ষায় বসা অসম্ভব হলেও পিএসসি বা সরকারের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিনিধি তাদের খোঁজ নেননি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, “আমরা কোনো রাজনৈতিক স্লোগান দেইনি। আমরা শুধু ন্যায্য প্রতিযোগিতার সুযোগ চেয়েছি। কিন্তু পিএসসির চেয়ারম্যান নিজের রোডম্যাপের জেদে পরীক্ষা আমাদের ওপর চাপিয়ে দিয়েছেন।”
অপরদিকে, সরকারি কর্মকমিশন (পিএসসি) এখনও আগের সিদ্ধান্তে অটল। কমিশন জানিয়েছে, ৪৭তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষা পূর্ব নির্ধারিত সময় অনুযায়ী আগামীকাল ২৭ নভেম্বর থেকে শুরু হবে। পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে দেশের ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, খুলনা, বরিশাল, সিলেট, রংপুর ও ময়মনসিংহ এই আটটি কেন্দ্রে। তবে পদ-সংশ্লিষ্ট কিছু বিষয় পরীক্ষা শুধুমাত্র ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে।
বাংলাধারা/এসআর
