ঢাকা, রবিবার, ১৮ জানুয়ারি ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩২

ইরানের সিদ্ধান্তের প্রশংসা করলেন ট্রাম্প, জানালেন ধন্যবাদ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

 প্রকাশিত: জানুয়ারী ১৭, ২০২৬, ১২:১৪ দুপুর  

ছবি: সংগৃহিত

ইরানে রাজনৈতিক বন্দিদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসায় দেশটির সরকারকে প্রকাশ্যে ধন্যবাদ ও প্রশংসা জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার হোয়াইট হাউজ ত্যাগের আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই মন্তব্য করেন।

ফ্লোরিডার পাম বিচে নিজ মালিকানাধীন মার-এ-লাগো রিসোর্টে সপ্তাহান্তের ছুটি কাটাতে যাওয়ার পথে ট্রাম্প বলেন, “ইরান ৮০০ জনেরও বেশি মানুষের ফাঁসি বাতিল করেছে। আমি তাদের এই সিদ্ধান্তকে অত্যন্ত সম্মান জানাই।”

রিপাবলিকান এই প্রেসিডেন্ট তার নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মেও একই বক্তব্য তুলে ধরে একটি সংক্ষিপ্ত পোস্টে লেখেন- “ধন্যবাদ!” সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, ইরানে ৮০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা বাস্তবায়ন করা হয়নি।

ইরানে চলমান বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে গণহারে প্রাণহানির ঘটনা ঘটলে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারে—এমন কঠোর হুঁশিয়ারি দেওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই ট্রাম্পের এই ইতিবাচক মন্তব্য সামনে এলো। যদিও সাম্প্রতিক সময়ে ইরানে বিক্ষোভের তীব্রতা অনেকটাই কমে এসেছে।

মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি অনুযায়ী, ইরানে চলমান আন্দোলনে নিহতের সংখ্যা এখনও বাড়ছে। তবে ট্রাম্পের বক্তব্যে ইঙ্গিত মিলেছে, মৃত্যুদণ্ড স্থগিত রাখার সিদ্ধান্তের কারণে আপাতত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা কমে এসেছে।

ইরানের বর্তমান মানবাধিকার পরিস্থিতির সঙ্গে ট্রাম্পের এই ইতিবাচক মূল্যায়নের তেমন সামঞ্জস্য না থাকলেও, বিশ্লেষকদের মতে এটি স্পষ্ট যে- আগে দেওয়া সম্ভাব্য হামলার বক্তব্য থেকে তিনি এখন কিছুটা সরে এসেছেন।

এর আগে ইরানি বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশ্যে এক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে ট্রাম্প লিখেছিলেন, “সাহায্য আসছে।” শুক্রবার সাংবাদিকরা সেই বক্তব্যের প্রসঙ্গ তুললে তিনি সংক্ষিপ্ত জবাব দেন, “দেখা যাক কী হয়।”

আরব ও ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের চাপের কারণে ইরান ইস্যুতে অবস্থান বদলেছেন কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, “কেউ আমাকে বোঝায়নি। আমি নিজেই আমার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”

তিনি আরও জানান, গতকাল ৮০০ জনেরও বেশি মানুষকে ফাঁসি দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু কাউকে ফাঁসি দেওয়া হয়নি। এই সিদ্ধান্ত আমার ওপর বড় প্রভাব ফেলেছে।

তবে ইরান সরকারের কার সঙ্গে বা কোন পর্যায়ের আলোচনার ভিত্তিতে এই মৃত্যুদণ্ড বাতিলের সিদ্ধান্ত নিশ্চিত হয়েছে- সে বিষয়ে ট্রাম্প কোনো বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি। বিষয়টি তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ একদিকে তিনি ইরানের প্রশংসা করছেন, অন্যদিকে দেশটিতে কঠোর দমন-পীড়নের মাধ্যমে হাজার হাজার মানুষ নিহত হওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

গত ২৮ ডিসেম্বর নড়বড়ে অর্থনীতির প্রতিবাদে ইরানে যে বিক্ষোভ শুরু হয়, তা দ্রুতই দেশটির ধর্মীয় শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলনে রূপ নেয়। বর্তমানে সেই অস্থিরতা অনেকটাই প্রশমিত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। গত কয়েক দিন ধরে রাজধানী তেহরানে বড় কোনো বিক্ষোভের খবর পাওয়া যায়নি; জনজীবন ও কেনাকাটার পরিস্থিতিও ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে। যদিও এখনও ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন বা সীমিত থাকার অভিযোগ রয়েছে।

দেশটির অন্যান্য এলাকাতেও নতুন করে সহিংসতার খবর জানায়নি কর্তৃপক্ষ।

তবে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন ‘হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্ট নিউজ এজেন্সি’ জানিয়েছে, বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৭৯৭ জনে, যা আরও বাড়তে পারে।

এদিকে ইরানের নির্বাসিত ক্রাউন প্রিন্স রেজা পাহলভি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি হস্তক্ষেপের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার আগের প্রতিশ্রুতি থেকে সরে আসবেন না। সূত্র: এপি

 

বাংলাধারা/এসআর