নববধূ মিতুসহ তিনজনের দাফন সম্পন্ন, শোকে স্তব্ধ গ্রাম
প্রকাশিত: মার্চ ১৩, ২০২৬, ০১:৫৫ দুপুর
ছবি: সংগৃহিত
বাগেরহাটের রামপালে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত নববধূ মারজিয়া আক্তার মিতু, তার ছোট বোন লামিয়া এবং দাদি রাশিদা বেগমের জানাজা শেষে দাফন সম্পন্ন হয়েছে। শুক্রবার (১৩ মার্চ) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে খুলনার কয়রা উপজেলার নাকশা গ্রামে বাড়ির পাশের একটি মাঠে তাদের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে পারিবারিক কবরস্থানে তাদের দাফন করা হয়।
স্থানীয়রা জানান, নিহতদের মরদেহ গ্রামের বাড়ি নাকশা গ্রামে পৌঁছানোর পর সকালে জানাজার আয়োজন করা হয়। জানাজা শেষে পরিবারের সদস্য ও স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। তিনজনকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হলে গ্রামজুড়ে নেমে আসে গভীর শোকের ছায়া।
এদিকে নিহত মিতুর নানি আনোয়ারা বেগমের মরদেহ দাফনের জন্য তাদের নিজ গ্রামের বাড়িতে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, যেখানে নতুন বধূকে ঘিরে আনন্দ-উৎসবের আবহ থাকার কথা ছিল, সেখানে এখন নেমে এসেছে শোকের স্তব্ধতা। স্বজনদের আহাজারিতে পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। নিহত মিতুর বাবা আব্দুস সালাম মোড়ল বারবার শোকে মূর্ছা যাচ্ছেন। গ্রামের মানুষও এ ঘটনায় গভীরভাবে মর্মাহত হয়ে পড়েছেন এবং নিহতদের রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া করছেন।
জানা গেছে, গত বুধবার রাতে খুলনার কয়রা উপজেলার নাকশা গ্রামের বাসিন্দা আব্দুস সালাম মোড়লের মেয়ে মারজিয়া আক্তার মিতুর সঙ্গে বিয়ে হয় মোংলা পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আবদুর রাজ্জাকের ছোট ছেলে আহাদুর রহমান (সাব্বির)-এর।
বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে বর-কনেসহ দুই পরিবারের সদস্যরা একটি মাইক্রোবাসে করে ফিরছিলেন। পথে বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার বেলাইবিজ এলাকায় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি বাসের সঙ্গে মাইক্রোবাসটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে মাইক্রোবাসের চালকসহ মোট ১৪ জন নিহত হন।
নিহতদের মধ্যে মাইক্রোবাসে থাকা কয়রার নাকশা গ্রামের মারজিয়া আক্তার মিতু, তার বোন লামিয়া, দাদি রাশিদা বেগম এবং নানি আনোয়ারা বেগম ছিলেন। এছাড়া বরের পরিবারের আরও নয়জনের মরদেহ মোংলায় নেওয়া হয়েছে। সেখানেও তাদের দাফনের প্রস্তুতি চলছে।
মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
বাংলাধারা/এসআর
