বাংলাধারা রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১ ঘন্টা আগে, ১২:৪৫ এ এম

অনলাইন সংস্করণ

অনুমতি ছাড়াই ওয়েবসাইটে প্রাথমিক বৃত্তির ফল প্রকাশ, বিভাগীয় ব্যবস্থার মুখে ডিপিই কর্মকর্তা

ছবি: সংগৃহীত

কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ছাড়াই প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা–২০২৫-এর আংশিক ফলাফল ওয়েবসাইটে প্রকাশ হয়ে যাওয়ার ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের (ডিপিই) এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে কীভাবে নির্ধারিত সময়ের আগেই ফলাফল জনসম্মুখে চলে এলো, তা খতিয়ে দেখতে তিন সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকালে ঢাকা বিভাগের নয়টি জেলার প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফলাফল ডিপিইর ওয়েবসাইটে দেখা যায়। ফলাফল প্রকাশের কোনো সরকারি ঘোষণা না থাকলেও কিছুক্ষণের মধ্যেই সেটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। পরে ওয়েবসাইট থেকে ফলাফল সরিয়ে নেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল আগামী রোববার প্রকাশ করা হতে পারে।

জানা যায়, বুধবার (৮ জুলাই) বৃত্তি পরীক্ষার ফল প্রস্তুত করা হয়। ফল প্রকাশের জন্য প্রয়োজনীয় ওয়েব লিংক তৈরির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সহকারী মেইনটেন্যান্স ইঞ্জিনিয়ার মো. মেহতাব কায়েসকে। তবে ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশের আগে কোনোভাবেই লাইভ সার্ভারে আপলোড করা যাবে না- এ বিষয়ে তাকে স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল।

অভিযোগ উঠেছে, সেই নির্দেশনা উপেক্ষা করে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে ঢাকা বিভাগের নয়টি জেলার ফলাফল সংশ্লিষ্ট লিংকে আপলোড করা হয়। লিংক সক্রিয় হওয়ার পর অনেক অভিভাবক ও শিক্ষার্থী ফলাফল ডাউনলোড করতে সক্ষম হন। অল্প সময়ের মধ্যেই ফলাফল বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।

এ ঘটনায় বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) প্রাথমিক তদন্তে জানিয়েছে, লাইভ সার্ভারে ফলাফল আপলোডের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় তথ্যপ্রযুক্তি নিরাপত্তা প্রটোকল অনুসরণ করা হয়নি। নিরাপত্তা নির্দেশনা অমান্য করায় আনুষ্ঠানিক প্রকাশের আগেই ফলাফল সাধারণ মানুষের নাগালে চলে আসে।

ঘটনার পর প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসীর সই করা এক চিঠিতে সহকারী মেইনটেন্যান্স ইঞ্জিনিয়ার মো. মেহতাব কায়েসের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে সুপারিশ করা হয়েছে।

এদিকে পুরো ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটনে পৃথক একটি অফিস আদেশে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে ডিপিই। পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) মো. মিরাজুল ইসলাম উকিলকে কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন উপবৃত্তি বিভাগের শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জিয়াউল কবির সুমন এবং সদস্যসচিব হিসেবে সহকারী পরিচালক (প্রশাসন-২) রোকসানা হায়দার।

অফিস আদেশ অনুযায়ী, তদন্ত কমিটিকে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে ঘটনার বিস্তারিত অনুসন্ধান করে প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই পরবর্তী প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

 

বাংলাধারা/শারমিন

মন্তব্য করুন