প্রকাশিত: ৪০ মিনিট আগে, ০৩:০৭ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরের আগে অনুকূল পরিবেশ তৈরির ওপর গুরুত্ব দিয়েছে বাংলাদেশ। ঢাকার প্রত্যাশা, সফরের আগে মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় দেশে ফেরত পাঠাবে নয়াদিল্লি। একই সঙ্গে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ ওসমান হাদির হত্যা মামলার সন্দেহভাজন আসামিদেরও বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তরের দাবি জানিয়েছে ঢাকা।
রোববার (১৬ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংক্ষিপ্ত ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এ কে এম শহীদুল করিম।
মুখপাত্র জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য দ্বিপক্ষীয় ভারত সফর নিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের কর্মকর্তারা গত কয়েক সপ্তাহ ধরে যোগাযোগ করে আসছেন। তবে সম্প্রতি দিল্লিতে শেখ হাসিনার প্রকাশ্য মতবিনিময়কে কেন্দ্র করে সেই প্রক্রিয়ায় কিছুটা জটিলতা তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন।
শহীদুল করিম বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফরের জন্য একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা প্রয়োজন বলে বাংলাদেশ মনে করে। এ লক্ষ্যে শেখ হাসিনাসহ অন্যান্য পলাতক আসামিকে প্রত্যর্পণের বিষয়ে বাংলাদেশের অনুরোধে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে আহ্বান জানানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় শহীদ ওসমান হাদি হত্যা মামলার অভিযুক্তদেরও বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করা উচিত। এ বিষয়ে ভারতের প্রতিক্রিয়ার অপেক্ষায় রয়েছে ঢাকা।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির অবস্থান তুলে ধরে মুখপাত্র বলেন, সার্বভৌম সমতা, জাতীয় মর্যাদা, একে অপরের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং পারস্পরিক সুবিধার ভিত্তিতে প্রতিবেশীসহ বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এগিয়ে নিতে বাংলাদেশ ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতি অনুসরণ করবে।
এদিকে আগামী সেপ্টেম্বরে দিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের আউটরিচ পর্বে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এর পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় সফরের জন্যও তাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে নয়াদিল্লি।
সম্প্রতি দিল্লিতে শেখ হাসিনাকে প্রকাশ্যে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়াকে কেন্দ্র করে প্রধানমন্ত্রীর ব্রিকস সম্মেলনে অংশগ্রহণ এবং ভারত সফর নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। পরে ঢাকা ও দিল্লির মধ্যে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়লে প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য দ্বিপক্ষীয় সফর নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়।
বাংলাধারা/শারমিন
মন্তব্য করুন