প্রকাশিত: ৯ ঘন্টা আগে, ০২:২৮ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত এবং বর্তমানে ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাক্ষাৎকার সম্প্রচার করায় সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমগুলোকে সতর্ক করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেছেন, আদালতের নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকা অবস্থায় এ ধরনের প্রচার আইন ও আদালতের নির্দেশনার পরিপন্থি।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
ডা. জাহেদ উর রহমান জানান, শেখ হাসিনার বক্তব্য বা সাক্ষাৎকার প্রচারের বিষয়ে আদালতের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এরপরও দেশের কয়েকটি গণমাধ্যম সম্প্রতি তার একটি সাক্ষাৎকার প্রচার করেছে, যা সরকারের নজরে এসেছে।
তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমগুলোকে সতর্ক করা হবে। পাশাপাশি তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকেও আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি জানিয়ে দেওয়া হবে।
তথ্য উপদেষ্টা বলেন, সরকার আপাতত কঠোর কোনো ব্যবস্থা নিতে চাইছে না। তবে আদালতের নির্দেশনা মেনে চলার বিষয়টি আবারও স্মরণ করিয়ে দেওয়া হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দেশের গণমাধ্যম আইন ও বিচার বিভাগের প্রতি যথাযথ সম্মান দেখিয়ে ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রচার থেকে বিরত থাকবে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তির যুগে বিদেশি গণমাধ্যম কিংবা অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বিভিন্ন তথ্য মানুষের কাছে পৌঁছানো স্বাভাবিক। তবে সেই তথ্য দেশীয় গণমাধ্যমে প্রচারের বৈধতা তৈরি করে না। আদালতের নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকা পর্যন্ত এ ধরনের সম্প্রচার অনুচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে প্রয়োজন হলে ভবিষ্যতে সরকার এ বিষয়ে আরও পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেন।
প্রেস ব্রিফিংয়ে আওয়ামী লীগ নতুন নামে রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনার সম্ভাবনা নিয়েও প্রশ্ন করা হলে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, আওয়ামী লীগের ওপর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকা পর্যন্ত দলটি ‘রিফর্মড আওয়ামী লীগ’, ‘তৃণমূল আওয়ামী লীগ’ বা অন্য যেকোনো নামে কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ পাবে না।
তিনি বলেন, ২০০৯ সালের সন্ত্রাস দমন আইনের সংশোধিত বিধান বহাল রেখেই আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের ওপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রাখা হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অনেক অধ্যাদেশ পরে আইন হিসেবে বহাল না থাকলেও এ সংশোধনী বহাল রাখা হয়েছে, যা সরকারের অবস্থানকে স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত করে।
আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দলটি নিষিদ্ধ থাকবে কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আদালতের। আদালতের রায় না আসা পর্যন্ত সরকারের অবস্থান হলো, দলটির রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের ওপর বর্তমান নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকা উচিত।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, বর্তমানে এ নির্বাচনে কোনো রাজনৈতিক দল আনুষ্ঠানিকভাবে অংশ নিচ্ছে না। অতীতে চেয়ারম্যান ও মেয়র পদে দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হলেও সেই ব্যবস্থা বাতিল হয়েছে। ফলে বিএনপি, জামায়াত, আওয়ামী লীগ কিংবা অন্য কোনো রাজনৈতিক দল দলীয় পরিচয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে না।
এ সময় দেশের বিভিন্ন স্থানে আরবি ভাষায় কালিমা লেখা পতাকা উত্তোলনের বিষয়েও সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন তিনি। ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, বিষয়টি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছে। এর সঙ্গে সরকারের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। বরং আন্তর্জাতিক পরিসরে এ নিয়ে ভুল বার্তা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকায় সরকার সতর্ক রয়েছে।
তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ চলছে এবং ব্যক্তিগতভাবেও তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। তার আশা, এ ধরনের ঘটনা আর দীর্ঘদিন চলবে না।
তথ্য উপদেষ্টা আরও বলেন, এসব ঘটনার পেছনে কোনো সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত বিষয়টি উদ্ঘাটন করা সম্ভব হবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
বাংলাধারা/শারমিন
মন্তব্য করুন