দায়িত্বশীল অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারে সচেতনতার আহ্বান ভাইস-চ্যান্সেলরের
বিএমইউতে বিশ্ব অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল সচেতনতা সপ্তাহ উদ্বোধন
প্রকাশিত: নভেম্বর ১৯, ২০২৫, ১২:২৫ দুপুর
ছবি: বাংলাধারা
‘এখনই পদক্ষেপ নিন, আমাদের বর্তমানকে রক্ষা করুন, আমাদের ভবিষ্যৎকে সুরক্ষিত করুন’- এই প্রতিপাদ্য নিয়ে বাংলাদেশ মেডিকেল ইউনিভার্সিটিতে (বিএমইউ) বিশ্ব অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল সচেতনতা সপ্তাহ-২০২৫ (১৮–২৪ নভেম্বর) উদ্বোধন করা হয়েছে।
অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্সের ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি, অ্যান্টিবায়োটিকের অপব্যবহারসহ সংক্রমণ প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়াতে বিএমইউর মাইক্রোবায়োলজি অ্যান্ড ইমিউনোলজি বিভাগের উদ্যোগে সপ্তাহব্যাপী নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এতে সহযোগিতা করে পাবলিক হেলথ অ্যান্ড ইনফরমেটিকস বিভাগ, শিশু বিভাগ, ফার্মাকোলজি বিভাগ ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)।
কর্মসূচির অংশ হিসেবে র্যালি, সংক্ষিপ্ত সমাবেশ, চিকিৎসক ও রোগীদের মধ্যে লিফলেট বিতরণ এবং সচেতনতামূলক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
সংক্ষিপ্ত সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএমইউর ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ডা. মো. শাহিনুল আলম। রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. মো. নজরুল ইসলামের সঞ্চালনায় শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন মাইক্রোবায়োলজি অ্যান্ড ইমিউনোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. আবু নাসের ইবনে সাত্তার।
এ ছাড়া বক্তব্য রাখেন প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মো. আবুল কালাম আজাদ, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মো. মুজিবুর রহমান হাওলাদার, শিশু বিভাগের ডিন অধ্যাপক ডা. মো. আতিয়ার রহমান, ডিন অধ্যাপক ডা. এম. আবু হেনা চৌধুরী এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধি ডা. মুরাদ সুলতান।
সমাবেশ শেষে ভাইস-চ্যান্সেলরের নেতৃত্বে র্যালি এবং সি ব্লকে চিকিৎসকদের মাঝে লিফলেট বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি চর্মরোগ বিদ্যা বিভাগের ক্লাসরুমে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও চিকিৎসকদের নিয়ে সচেতনতামূলক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
র্যালিপূর্ব বক্তব্যে ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ডা. মো. শাহিনুল আলম বলেন, অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স মানবস্বাস্থ্যের সামনে এক ভয়াবহ হুমকি। যথেচ্ছ অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের কারণে বিশ্বজুড়ে বহু মানুষ মৃত্যুর ঝুঁকিতে পড়ছে। রোগীর দেহে অ্যান্টিবায়োটিক কাজ না করলে চিকিৎসা জটিল হয়ে পড়ে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মও মারাত্মক বিপদের মুখে পড়ে।
তিনি চিকিৎসক ও রোগী উভয় পক্ষকে সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সুনির্দিষ্ট প্রয়োজন ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করা যাবে না। ফার্মেসিগুলোকে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াঅ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি বন্ধে কঠোর নজরদারিতে আসতে হবে।
প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্সের কারণে অনেক প্রচলিত ওষুধ আর আগের মতো কাজ করছে না-এটি অত্যন্ত ভয়াবহ সংকেত। পোল্ট্রি ও গবাদিপশু খাত থেকেও মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে। ব্যবহারের মাত্রা ও নির্ধারিত সময় ঠিকভাবে না মানায় পরিস্থিতি আরও জটিল হচ্ছে। তাই জাতীয় পর্যায়ে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারে কঠোর নিয়ন্ত্রণ জরুরি।
গবেষণা ও উন্নয়ন বিভাগের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ডা. মো. মুজিবুর রহমান হাওলাদার বলেন, দায়িত্বহীনভাবে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের ফলে চিকিৎসাসেবাই প্রশ্নের মুখে পড়ছে। সংক্রমণ প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় সময়ে অ্যান্টিবায়োটিক কাজ না করায় অনেক রোগীর ফুসফুস, কিডনি ও অন্যান্য অঙ্গদেহ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আইসিইউতে অনেক রোগীর মৃত্যু পর্যন্ত ঘটছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধি ডা. মুরাদ সুলতান বলেন, সংক্রমণ প্রতিরোধে হাত ধোয়া ও মাস্ক ব্যবহারের অভ্যাস এখনো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারে সতর্কতা বজায় রাখা সবার দায়িত্ব।
অনুষ্ঠানের সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন মাইক্রোবায়োলজি অ্যান্ড ইমিউনোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. সানজিদা সেতু, পাবলিক হেলথ অ্যান্ড ইনফরমেটিকস বিভাগের জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. ফারজানা ইসলাম রুপা, শিশু বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. জেসমিন মোর্সেদ এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধি ডা. মুরাদ সুলতান।
বাংলাধারা/এসআর
