ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬, ১৯ ফাল্গুন ১৪৩২

ইফতারে অতিরিক্ত ভাজাপোড়া খেলে বাড়তে পারে স্বাস্থ্যঝুঁকি

নিজস্ব প্রতিবেদক

 প্রকাশিত: মার্চ ০৪, ২০২৬, ০৯:৫১ রাত  

ছবি: সংগৃহিত

রোজার মাসে সারাদিন না খেয়ে থাকার পর ইফতারে পেঁয়াজু, বেগুনি, চপ কিংবা বিভিন্ন ভাজাপোড়া খাবারের প্রতি অনেকেরই আলাদা আগ্রহ থাকে। তবে পুষ্টিবিদ ও চিকিৎসকদের মতে, দীর্ঘ সময় খালি পেটে থাকার পর অতিরিক্ত তেল-চর্বিযুক্ত খাবার খেলে শরীরে নানা ধরনের জটিলতা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, গ্যাস্ট্রিক ও হজমের সমস্যায় ভোগা ব্যক্তিদের জন্য এ ধরনের খাবার ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা জানান, সারাদিন রোজা রাখার ফলে শরীরের বিপাকক্রিয়া ধীর হয়ে যায়। ইফতারের সময় হঠাৎ করে বেশি তেলযুক্ত বা অতিরিক্ত মিষ্টি খাবার খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বেড়ে যায়। এতে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি যেমন বাড়ে, তেমনি অস্বস্তি, অম্বল, বুকজ্বালা ও পেট ফাঁপার মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে। অতিরিক্ত ভাজাপোড়া খাবার শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও দুর্বল করে এবং দ্রুত ক্লান্তি নিয়ে আসে। দীর্ঘমেয়াদে এটি ওজন বৃদ্ধি ও হৃদরোগের ঝুঁকিও বাড়াতে পারে।

চিকিৎসকরা পরামর্শ দেন, ইফতার শুরু করা উচিত হালকা ও সহজপাচ্য খাবার দিয়ে। খেজুর দিয়ে ইফতার শুরু করা সুন্নত এবং পুষ্টিগুণের দিক থেকেও উপকারী। সঙ্গে পরিমিত পানি পান করা জরুরি, তবে একবারে অনেক পানি না খেয়ে ইফতার থেকে সাহরি পর্যন্ত অল্প অল্প করে পর্যাপ্ত পানি পান করাই ভালো। লেবুর শরবত বা ডাবের পানি শরীরের পানিশূন্যতা দূর করতে সহায়ক।

ফলমূল ইফতারের জন্য অন্যতম ভালো নির্বাচন। তরমুজ, বাঙ্গি, আনারস, আমসহ মৌসুমি দেশি ফল শরীরে দ্রুত শক্তি জোগায় এবং ভিটামিনের ঘাটতি পূরণ করে। পাশাপাশি পাতলা খিচুড়ি, হালিম, ওটস, দুধ বা দইয়ের মতো পুষ্টিকর খাবার রাখা যেতে পারে, যা শরীরকে ধীরে ধীরে শক্তি দেয় এবং হজমে সহায়তা করে। শসা, টমেটো, গাজর ও পুদিনা পাতার সালাদ খনিজ লবণের চাহিদা পূরণে কার্যকর ভূমিকা রাখে।

ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের ক্ষেত্রে সতর্কতা আরও বেশি প্রয়োজন। তাদের ভাজাপোড়া ও অতিরিক্ত চিনিযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলা উচিত। এর পরিবর্তে ফল, বাদাম, ওটস বা সেদ্ধজাত হালকা খাবার বেছে নেওয়া স্বাস্থ্যসম্মত।

রোজা রাখার মূল উদ্দেশ্য যেমন আত্মশুদ্ধি, তেমনি সুস্থ থাকা-ও গুরুত্বপূর্ণ। তাই ইফতারের টেবিলে সাময়িক স্বাদের চেয়ে দীর্ঘমেয়াদি সুস্থতাকে প্রাধান্য দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

বাংলাধারা/এসআর