ঢাকা, সোমবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪৩২

নতুন বন্যপ্রাণী আইনে কঠোর ব্যবস্থা, বন্যপ্রাণী হত্যায় আর জামিন নয়

নিজস্ব প্রতিবেদক

 প্রকাশিত: অক্টোবর ২৬, ২০২৫, ০৩:০২ দুপুর  

ছবি: সংগৃহিত

বন্যপ্রাণী হত্যার মামলায় আর জামিনের সুযোগ থাকছে না, নতুন বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনে এমন কঠোর বিধান যুক্ত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।

রোববার (২৬ অক্টোবর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের বন ভবনে আন্তর্জাতিক মিঠাপানির ডলফিন দিবস ২০২৫ উদ্‌যাপন অনুষ্ঠানে এ তথ্য জানান তিনি। অনুষ্ঠানে ওয়াইল্ডলাইফ কনজারভেশন সোসাইটির কান্ট্রি ডিরেক্টর মো. জাহাঙ্গীর আলম ‘মিঠাপানির ডলফিন জরিপ ২০২৪-২৫’-এর ফলাফল উপস্থাপন করেন।

রিজওয়ানা হাসান বলেন, “নতুন আইনে বন্যপ্রাণী হত্যা মামলায় কোনো অবস্থাতেই জামিনের সুযোগ থাকছে না। আমরা অনেক সময় মেছো বিড়ালকে মেছোবাঘ ভেবে মেরে ফেলি, আবার ভিডিও করে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেই, এমন আচরণ পরিবর্তন করা জরুরি। একটি প্রাণীর সঙ্গে আরেকটির অস্তিত্ব গভীরভাবে সম্পর্কিত। মানসিক ও আচরণগত পরিবর্তন না আনলে বন্যপ্রাণী রক্ষা করা সম্ভব নয়।”

তিনি আরও জানান, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের কাজকে টেকসই করতে একটি স্বেচ্ছাসেবক নেটওয়ার্ক গঠনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এতে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে কাজ করা বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে যুক্ত হয়ে একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হবে। তার ভাষায়, “আমি চাই, আমার মেয়াদকালে ‘নেটওয়ার্ক ফর ওয়াইল্ডলাইফ অ্যান্ড ফরেস্ট’ গঠন করে যেতে। বন বিভাগ একা নয়, স্বেচ্ছাসেবকদের সঙ্গে কাজ করলে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের কাজ আরও দূর এগিয়ে যাবে।”

বর্তমানে কার্যকর বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন ২০১২ অনুযায়ী, ৩৬ ধারার অধীন অপরাধ অজামিনযোগ্য; বাঘ ও হাতি হত্যার মতো অপরাধ এর অন্তর্ভুক্ত। তবে অন্যান্য অপরাধ আমলযোগ্য নয়, জামিনযোগ্য এবং ক্ষতিপূরণ সাপেক্ষে আপসযোগ্য। ৩৭ ধারায় তিমি বা ডলফিন হত্যার জন্য সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড, তিন লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে।

নতুন আইনে এই বিধান আরও কঠোর করা হচ্ছে বলে জানান পরিবেশ উপদেষ্টা, যাতে দেশের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ কার্যক্রম আরও কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক হয়।

বাংলাধারা/এসআর