হাদি হত্যাকাণ্ড
প্রধান অভিযুক্ত ফয়সাল দেশ ছেড়ে পালিয়েছে, পুলিশের স্বীকারোক্তি
প্রকাশিত: ডিসেম্বর ২৮, ২০২৫, ০১:০৩ দুপুর
ছবি: সংগৃহিত
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডের মামলার প্রধান অভিযুক্ত ফয়সাল দেশ ছেড়ে পালিয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এস এন মো. নজরুল ইসলাম এ তথ্য জানিয়েছেন।
রোববার (২৮ ডিসেম্বর) সকালে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, হাদি হত্যাকাণ্ডটি ছিল সম্পূর্ণ পূর্বপরিকল্পিত। ঘটনার পর ফয়সালসহ আরও একজন সহযোগী ময়মনসিংহ সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে পালিয়ে গেছে।
পুলিশ জানায়, এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে এখন পর্যন্ত মোট ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারদের মধ্যে ৬ জন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তদন্ত কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে চলছে এবং আগামী ৭ থেকে ৮ দিনের মধ্যেই মামলার অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে বলে জানান ডিএমপির এই কর্মকর্তা।
পুলিশের বিবরণ অনুযায়ী, গত ১২ ডিসেম্বর দুপুর আনুমানিক ২টা ২০ মিনিটে রাজধানীর পল্টন থানাধীন বক্স কালভার্ট রোডে হামলার শিকার হন শরিফ ওসমান হাদি। জুমার নামাজ শেষে মতিঝিল মসজিদ এলাকা থেকে প্রচারণা চালিয়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের দিকে যাওয়ার পথে মোটরসাইকেলে থাকা প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ রাহুল দাউদ এবং তার এক অজ্ঞাত সহযোগী চলন্ত অবস্থায় তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়।
গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হাদিকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য গত ১৫ ডিসেম্বর তাকে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়। সেখানে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে তিনি মারা যান।
এ ঘটনায় গত ১৪ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে পল্টন থানায় একটি হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেন। মামলায় অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, হত্যাচেষ্টা এবং বিপজ্জনক অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ আনা হয়। পরবর্তীতে হাদির মৃত্যুর পর গত ২০ ডিসেম্বর আদালতের আদেশে মামলায় দণ্ডবিধির ৩০২ ধারা (হত্যা) সংযোজন করা হয়। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সিদ্দিক আজাদ এ আদেশ দেন।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে আন্তর্জাতিক আইনগত প্রক্রিয়াসহ সব ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
বাংলাধারা/এসআর
