আসন্ন নির্বাচন আয়োজনে ‘আমরা পুরোপুরি প্রস্তুত’: প্রধান উপদেষ্টা
প্রকাশিত: ডিসেম্বর ২৯, ২০২৫, ০৫:২৪ বিকাল
ছবি: সংগৃহিত
আগামী ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠেয় জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সুষ্ঠু, অবাধ ও শান্তিপূর্ণভাবে আয়োজনের জন্য সরকার পুরোপুরি প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।
সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) ঢাকায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ট্রেসি অ্যান জ্যাকবসনের সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাতে এ কথা বলেন তিনি।
সাক্ষাতে আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট ছাড়াও দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক, বেসামরিক বিমান চলাচল, অন্তর্বর্তী সরকারের নেওয়া শ্রম সংস্কার উদ্যোগ এবং বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বাংলাদেশে দায়িত্ব পালনকালে অন্তর্বর্তী সরকারের নেতৃত্বের প্রশংসা করে ট্রেসি অ্যান জ্যাকবসন বলেন, অধ্যাপক ইউনূসের নেতৃত্বে গত ১৭ মাসে বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি অর্জন করেছে। তিনি ফেব্রুয়ারির নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের পূর্ণ সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন।
জবাবে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, সরকার অবাধ, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘আমরা পুরোপুরি প্রস্তুত। নির্বাচনের আগে বা নির্বাচনী প্রক্রিয়া ব্যাহত করার যেকোনো চেষ্টা কঠোরভাবে মোকাবিলা করা হবে।’
অন্তর্বর্তী সরকারের নেওয়া সংস্কার কার্যক্রমের প্রশংসা করে মার্কিন চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স নতুন শ্রম আইনকে ‘অসাধারণ ও ব্যতিক্রমধর্মী’ আখ্যা দেন। তার মতে, এসব সংস্কার বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বিশেষ করে পূর্ববর্তী সরকারগুলোর সময়ে শ্রমিক নেতাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা ৪৬টি মামলার মধ্যে ৪৫টি প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
এর জবাবে অধ্যাপক ইউনূস নতুন শ্রম অধ্যাদেশকে ‘একটি উৎকৃষ্ট ও সময়োপযোগী আইন’ হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি জানান, দেশের শীর্ষস্থানীয় শ্রমিক নেতারা এই সংস্কারকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) কনভেনশন অনুসমর্থনের বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্যোগ আন্তর্জাতিকভাবে ইতিবাচকভাবে দেখা হচ্ছে।
সাক্ষাতে রোহিঙ্গা সংকট ও মানবিক সহায়তা নিয়েও আলোচনা হয়। রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের শরণার্থী শিবিরগুলোতে অবস্থানরত এক মিলিয়নের বেশি জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গার জন্য যুক্তরাষ্ট্র এককভাবে সবচেয়ে বড় মানবিক সহায়তাদাতা।
তিনি ভবিষ্যতেও এই সহায়তা অব্যাহত থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বিদায়ী সাক্ষাতে বাংলাদেশে দায়িত্ব পালনকালে ‘গুরুত্বপূর্ণ অবদান’ রাখার জন্য ট্রেসি অ্যান জ্যাকবসনকে ধন্যবাদ জানান অধ্যাপক ইউনূস। তিনি তাকে বাংলাদেশের একজন ‘বন্ধু’ হিসেবে উল্লেখ করে ভবিষ্যতে আবার বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান।
এ সময় সাক্ষাতে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান এবং এসডিজি বিষয়ক সিনিয়র সচিব লামিয়া মোরশেদ উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাধারা/এসআর
