যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা বন্ড তালিকায় বাংলাদেশ, ভ্রমণে বাড়তি ১৫ হাজার ডলার জামানতের শর্ত
প্রকাশিত: জানুয়ারী ০৭, ২০২৬, ১০:২৪ দুপুর
ছবি: সংগৃহিত
যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা বন্ড তালিকায় যুক্ত হয়েছে বাংলাদেশের নাম। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণে আগ্রহী বাংলাদেশি নাগরিকদের ভিসা পাওয়ার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত জামানত বা ‘ভিসা বন্ড’ জমা দিতে হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর ৬ জানুয়ারি ভিসা বন্ডের আওতাভুক্ত দেশগুলোর হালনাগাদ তালিকা প্রকাশ করে। এতে নতুন করে বাংলাদেশসহ মোট ৩৮টি দেশের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। স্টেট ডিপার্টমেন্টের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য এই নিয়ম কার্যকর হবে আগামী ২১ জানুয়ারি থেকে।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, তালিকাভুক্ত ৩৮ দেশের নাগরিকরা ভিসার জন্য যোগ্য বিবেচিত হলেও সংশ্লিষ্ট কনস্যুলার অফিসার চাইলে তাদের ওপর ভিসা বন্ডের শর্ত আরোপ করতে পারবেন। এই জামানতের পরিমাণ ধাপে ধাপে নির্ধারিত- ৫ হাজার, ১০ হাজার অথবা ১৫ হাজার মার্কিন ডলার।
আবেদনকারীর ব্যক্তিগত তথ্য, ভ্রমণের উদ্দেশ্য এবং ভিসা ইন্টারভিউয়ের মূল্যায়নের ভিত্তিতে বন্ডের অঙ্ক ঠিক করবেন ভিসা কর্মকর্তা। বন্ডের অর্থ যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনলাইন প্ল্যাটফর্ম Pay.gov-এর মাধ্যমে জমা দিতে হবে। তবে কনস্যুলার অফিসার স্পষ্ট নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত কোনো অর্থ জমা না দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
স্টেট ডিপার্টমেন্ট বলছে, এটি একটি পাইলট প্রোগ্রাম। এর মূল লক্ষ্য হলো ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে অবস্থান করা বা ওভারস্টে প্রবণতা কমানো। যেসব দেশের নাগরিকদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে ফিরে না আসার হার তুলনামূলক বেশি, সেসব দেশকেই এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে দাবি তাদের।
ভিসা বন্ড কোনো স্থায়ী ফি নয়। এটি ফেরতযোগ্য জামানত। স্টেট ডিপার্টমেন্টের নির্দেশনা অনুযায়ী, নির্দিষ্ট কয়েকটি ক্ষেত্রে জমা দেওয়া অর্থ ফেরত পাওয়া যাবে—
* ভ্রমণকারী অনুমোদিত সময়ের মধ্যে বা তার আগেই যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করলে
* ভিসা পাওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ না করলে
* যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবন্দরে প্রবেশে বাধা পেলে
তবে কেউ যদি অনুমোদিত সময়ের বেশি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করেন বা ভিসার ধরন পরিবর্তনের আবেদন করেন, যেমন রাজনৈতিক আশ্রয় বা এসাইলাম, তাহলে সেই জামানতের অর্থ বাজেয়াপ্ত করা হবে।
ভিসা বন্ডের আওতায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশকারী যাত্রীদের জন্য নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে তিনটি বিমানবন্দর। বাংলাদেশিরা কেবল বোস্টন লোগান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট, নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট এবং ওয়াশিংটন ডুলস ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারবেন।
এই নির্ধারিত পথ ছাড়া অন্য কোনো বিমানবন্দর ব্যবহার করলে বন্ডের শর্ত ভঙ্গ হয়েছে বলে গণ্য হতে পারে। এতে জামানতের টাকা ফেরত পাওয়ার ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বাংলাদেশ ছাড়াও এই ভিসা বন্ড তালিকায় রয়েছে আলজেরিয়া, অ্যাঙ্গোলা, ভুটান, কিউবা, জিবুতি, ফিজি, নাইজেরিয়া, নেপাল ও উগান্ডাসহ আরও কয়েকটি দেশ। প্রতিটি দেশের ক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন তারিখ থেকে এই নিয়ম কার্যকর হবে।
এই সিদ্ধান্তের ফলে বাংলাদেশিদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা পাওয়া আরও ব্যয়বহুল ও জটিল হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে পর্যটক, ব্যবসায়ী ও স্বল্পমেয়াদি ভ্রমণকারীদের ক্ষেত্রে বাড়তি আর্থিক চাপ তৈরি হতে পারে।
ভিসা বন্ড হলো একটি আর্থিক নিশ্চয়তা ব্যবস্থা। নির্দিষ্ট কিছু দেশের নাগরিকদের সাময়িক ভিসা দেওয়ার আগে এমন জামানত নেওয়া হয়, যাতে তারা ভিসার শর্ত মেনে চলেন এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দেশ ত্যাগ করেন।
প্রতিবছর যুক্তরাষ্ট্র হাজারো বিদেশি শিক্ষার্থী, পর্যটক ও কর্মীকে অস্থায়ী নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা দেয়। এসব ভিসার মেয়াদ কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক বছর পর্যন্ত হতে পারে। অনুমোদিত সময়ের বেশি অবস্থান করলেই সেটি ভিসা ওভারস্টে হিসেবে গণ্য হয়।
বিশ্বের বেশির ভাগ দেশ ভিসার সময় পর্যাপ্ত অর্থের প্রমাণ চাইলেও ফেরতযোগ্য জামানতের মাধ্যমে প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার ব্যবস্থা খুব বেশি চালু হয়নি। নিউজিল্যান্ড একসময় ওভারস্টে নিয়ন্ত্রণে ভিসা বন্ড চালু করলেও পরে তা বন্ধ করে দেয়। যুক্তরাজ্যও ২০১৩ সালে কিছু ‘উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ’ দেশের জন্য এমন উদ্যোগ নিলেও শেষ পর্যন্ত তা বাতিল করে।
যুক্তরাষ্ট্রের এই নতুন সিদ্ধান্ত কতটা কার্যকর হয় এবং ভবিষ্যতে তালিকায় পরিবর্তন আসে কিনা, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
বাংলাধারা/এসআর
