ঢাকা, বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২১ মাঘ ১৪৩২

হাদি হত্যা মামলা:

আসামি ফয়সালের ৫৩ ব্যাংক হিসাবের সাড়ে ৬৫ লাখ টাকা অবরুদ্ধ

নিজস্ব প্রতিবেদক

 প্রকাশিত: জানুয়ারী ০৭, ২০২৬, ০৩:২৪ দুপুর  

ফাইল ছবি

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার প্রধান অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদের নামে থাকা ৫৩টি ব্যাংক হিসাবের ৬৫ লাখ ৫০ হাজার ২৪৬ টাকা অবরুদ্ধ করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)-এর আবেদনের পর বুধবার (৭ জানুয়ারি) ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মো. সাব্বির ফয়েজ এ আদেশ দেন। সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী রিয়াজ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সিআইডির তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক আব্দুল লতিফ ফয়সাল করিম মাসুদের এসব ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ করার আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়, পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট এলাকায় ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় ফয়সাল করিম মাসুদসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগ অনুসন্ধান চলছে।

অনুসন্ধানকালে ফয়সাল করিম মাসুদ এবং তার স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে থাকা ব্যাংক হিসাবগুলো বিশ্লেষণে সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। প্রাথমিক তদন্তে খুন, সন্ত্রাস, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে অর্থ জোগান এবং সংঘবদ্ধ অপরাধে সম্পৃক্ততার ইঙ্গিতও মিলেছে, যা মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের আওতাভুক্ত অপরাধ হিসেবে বিবেচিত।

এ অবস্থায় মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ (সংশোধিত ২০১৫) এর ১৪ ধারায় এসব হিসাব অবরুদ্ধ এবং একই আইনের ১৭(২) ধারায় হিসাবগুলোতে থাকা অর্থ রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করা প্রয়োজন বলে উল্লেখ করা হয়। অন্যথায় অভিযোগ নিষ্পত্তির আগেই অর্থ আত্মসাতের ঝুঁকি রয়েছে বলে আবেদনে জানানো হয়।

এদিকে হাদি হত্যা মামলায় ফয়সাল করিম মাসুদ ও সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পিসহ ১৭ জনকে আসামি করে মঙ্গলবার অভিযোগপত্র দিয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ। এর মধ্যে ১১ জন বর্তমানে গ্রেপ্তার রয়েছেন।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- ফয়সাল করিম মাসুদের বাবা মো. হুমায়ুন কবির, মা মোসা. হাসি বেগম, স্ত্রী সাহেদা পারভীন সামিয়া, বান্ধবী মারিয়া আক্তার লিমা, শ্যালক ওয়াহিদ আহমেদ সিপু, রেন্ট-এ-কার ব্যবসায়ী মুফতি মো. নুরুজ্জামান নোমানী ওরফে উজ্জ্বল, সহযোগী মো. কবির, ভারতে পালাতে সহায়তাকারী সিবিউন দিউ ও সঞ্জয় চিসিম, কাউন্সিলর বাপ্পির বোনজামাই আমিনুল ইসলাম রাজু এবং সিপুর ঘনিষ্ঠ মো. ফয়সাল।

অন্যদিকে তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পি, ফয়সাল করিম মাসুদ, মোটরসাইকেল চালক আলমগীর, ভারতে পাচারে সহায়তাকারী ফিলিপ, ফয়সালের বোন জেসমিন ও তার স্বামী মুফতি মাহমুদ এখনো পলাতক রয়েছেন।

উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর মতিঝিলে জুমার নামাজ শেষে নির্বাচনী প্রচারণা শেষ করে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে যাওয়ার পথে দুপুর আনুমানিক ২টা ২০ মিনিটে শরিফ ওসমান হাদিকে বহনকারী অটোরিকশা পল্টন মডেল থানাধীন বক্স কালভার্ট এলাকায় পৌঁছালে মোটরসাইকেলে থাকা দুর্বৃত্তরা তাকে গুলি করে পালিয়ে যায়।

গুরুতর আহত অবস্থায় হাদিকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। অস্ত্রোপচারের পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয় এবং পরবর্তীতে ১৫ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তার মৃত্যু হয়।

গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় ১৪ ডিসেম্বর পল্টন থানায় ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। হাদির মৃত্যুর পর মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়।

 

বাংলাধারা/এসআর