ঢাকা, বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২১ মাঘ ১৪৩২

ভোটের মাঠে প্রায় ৯ লাখ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, থাকছে ১ লাখ সেনা

নিজস্ব প্রতিবেদক

 প্রকাশিত: জানুয়ারী ১৯, ২০২৬, ০৫:৩১ বিকাল  

ছবি: সংগৃহিত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নজিরবিহীন নিরাপত্তা পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। নির্বাচনের মাঠে মোতায়েন করা হবে মোট ৮ লাখ ৯৭ হাজার ১১৭ জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য। এর মধ্যে এককভাবে সেনাবাহিনীর সদস্য থাকবেন এক লাখ।

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সচিবালয়ে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠক শেষে এসব তথ্য জানান স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।

তিনি জানান, নির্বাচনে নিরাপত্তা নিশ্চিতে সেনাবাহিনীর পাশাপাশি নৌবাহিনীর ৫ হাজার, বিমান বাহিনীর ৩ হাজার ৭৩০ জন (এর মধ্যে স্থলভাগে ১ হাজার ২৫০), পুলিশের ১ লাখ ৪৯ হাজার ৪৪৩, আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ৫ লাখ ৭৬ হাজার ৩১৪, বিজিবির ৩৭ হাজার ৪৫৩, কোস্ট গার্ডের ৩ হাজার ৫৮৫, র‍্যাবের ৭ হাজার ৭০০ এবং ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ১৩ হাজার ৩৯০ জন সদস্য মাঠে থাকবেন।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ করতে সরকার সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। এ লক্ষ্যে দেশজুড়ে দুই ধাপে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হবে। ভোটকেন্দ্রভিত্তিক নিরাপত্তা, মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স পরিচালনাসহ সব কার্যক্রম রিটার্নিং কর্মকর্তার অধীনে সমন্বিতভাবে পরিচালিত হবে। এ বিষয়ে ৬ জানুয়ারি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পরিপত্র জারি করা হয়েছে।

তিনি জানান, ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় পুলিশ, বিজিবি, আনসার ও ভিডিপিকে সহায়তা দিতে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা মাঠে থাকবেন। প্রথম ধাপের মোতায়েন চলমান রয়েছে। দ্বিতীয় ধাপে ৮ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সাত দিন ভোটকেন্দ্রিক দায়িত্ব পালন করবেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।

নির্বাচন উপলক্ষে কেন্দ্র থেকে জেলা ও উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা সমন্বয় সেল গঠন করা হবে। পাশাপাশি জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এর মাধ্যমে সার্বক্ষণিক সেবা দিতে বিশেষ টিম যুক্ত করা হবে। অভিযোগ পেলেই তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নিতে এসব টিম স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট সমন্বয় সেলের সঙ্গে কাজ করবে।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, এবারের নির্বাচনে মোট ভোটকেন্দ্র ৪২ হাজার ৭৬১টি। এর মধ্যে ৮ হাজার ৭৮০টি অধিক গুরুত্বপূর্ণ, ১৬ হাজার ৫৪৮টি গুরুত্বপূর্ণ এবং ১৭ হাজার ৪৩৩টি সাধারণ কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত। অধিক গুরুত্বপূর্ণ ও গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে পুলিশের ২৫ হাজার বডি ওয়ার্ন ক্যামেরা ব্যবহার করা হবে। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি স্থাপনের প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে।

নিরাপত্তা তদারকিতে এবারই প্রথমবারের মতো ৪১৮টি ড্রোন ব্যবহার করা হবে। সেনাবাহিনীর ২০০, বিজিবির ১০০, পুলিশের ৫০সহ বিভিন্ন বাহিনীর ড্রোন সমন্বিতভাবে ব্যবহৃত হবে। পাশাপাশি ডগ স্কোয়াডও মাঠে থাকবে।

তিনি বলেন, নির্বাচনী নিরাপত্তা ব্যবস্থায় সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখবে ‘নির্বাচন সুরক্ষা অ্যাপ–২০২৬’। এনটিএমসি তৈরি করা এই অ্যাপের সঙ্গে যুক্ত থাকবে বিভিন্ন বাহিনী, রিটার্নিং কর্মকর্তারা ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কন্ট্রোল রুম। এর মাধ্যমে তাৎক্ষণিক অভিযোগ গ্রহণ ও দ্রুত প্রতিকার সম্ভব হবে।

দুর্গম ও চরাঞ্চলের ভোটকেন্দ্রগুলোতে ব্যালট ও নির্বাচনী সামগ্রী পরিবহনে বিমান বাহিনীর হেলিকপ্টার ব্যবহারের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে এমন যেকোনো অপতৎপরতার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা।

এদিকে, অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেইজ-২ অভিযানে গত ১৩ ডিসেম্বর থেকে ১৭ জানুয়ারি পর্যন্ত গ্রেপ্তার করা হয়েছে ১৯ হাজার ৮৫৪ জন। উদ্ধার করা হয়েছে শতাধিক আগ্নেয়াস্ত্র, গোলাবারুদ, দেশীয় অস্ত্র ও বিস্ফোরক। এ অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে বলে জানান তিনি।


বাংলাধারা/এসআর