চট্টগ্রামের স্বপ্ন ভেঙে দ্বিতীয়বারের মতো বিপিএল চ্যাম্পিয়ন রাজশাহী ওয়ারিয়র্স
প্রকাশিত: জানুয়ারী ২৩, ২০২৬, ০৯:৫৪ রাত
ছবি: সংগৃহিত
বিপিএলের দ্বাদশ আসরের ফাইনালটা হয়ে উঠল একপেশে। শিরোপার লড়াইয়ে চট্টগ্রাম রয়্যালসকে কোনো সুযোগই দিল না রাজশাহী ওয়ারিয়র্স। ব্যাটে-বলে পূর্ণ আধিপত্য দেখিয়ে ৬৩ রানের বিশাল ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিপিএল চ্যাম্পিয়ন হলো রাজশাহী।
মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে চট্টগ্রামের অধিনায়ক শেখ মেহেদী হাসান রাজশাহীকে ব্যাটিংয়ে পাঠান। তবে সেই সিদ্ধান্ত যে কাল হয়ে দাঁড়াবে, তা শুরুতেই বুঝিয়ে দেয় রাজশাহীর ব্যাটাররা। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ১৭৪ রান তোলে রাজশাহী। জবাবে ব্যাট করতে নেমে চট্টগ্রাম রয়্যালস গুটিয়ে যায় মাত্র ১১১ রানে।
এর মধ্য দিয়ে রাজশাহী ফ্র্যাঞ্চাইজি দ্বিতীয়বার বিপিএলের শিরোপা জয়ের স্বাদ পেল। এর আগে ২০১৯–২০ মৌসুমে ‘রাজশাহী রয়্যালস’ নামে প্রথমবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল দলটি। বিপিএলের ইতিহাসে এখনো সর্বোচ্চ চারবার শিরোপা জয়ের কৃতিত্ব কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের। তিনবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ঢাকা, দুইবার করে শিরোপা জিতেছে রাজশাহী ও বরিশাল। একবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল রংপুর রাইডার্স।
ফাইনালে রাজশাহীর ইনিংসের শুরুটা ছিল দুর্দান্ত। ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম ও সাহিবজাদা ফারহান মিলে প্রথম উইকেটেই ৮৩ রানের জুটি গড়েন। ৩০ বলে ৩০ রান করে ফারহান ফিরলেও, অন্য প্রান্তে আগ্রাসী মেজাজে ব্যাট করতে থাকেন তানজিদ।
দ্বিতীয় উইকেটে কেন উইলিয়ামসনকে সঙ্গে নিয়ে আরও ৪৭ রান যোগ করেন তিনি। ১৫ বলে ২৪ রান করে শরিফুল ইসলামের বলে উইলিয়ামসন আউট হলেও থামেননি তানজিদ। ফিফটির পর তুলে নেন দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরি। চলতি আসরে এটি ছিল তার চতুর্থ সেঞ্চুরি এবং বিপিএল ফাইনালের ইতিহাসে তৃতীয় সেঞ্চুরি। এর আগে ফাইনালে শতক করেছিলেন ক্রিস গেইল ও তামিম ইকবাল।
শেষ পর্যন্ত ৬২ বলে ১০০ রানের এক অনবদ্য ইনিংস খেলেন তানজিদ হাসান তামিম। তার ইনিংসটি সাজানো ছিল ছয়টি চার ও সাতটি ছয়ে। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত করেন ১১ রান, আর জিমি নিশাম ৭ রানে অপরাজিত থাকেন।
চট্টগ্রামের হয়ে বল হাতে কিছুটা লড়াই করেন শরিফুল ইসলাম ও মুকিদুল ইসলাম। দুজনই দুটি করে উইকেট শিকার করেন।
১৭৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই ধসে পড়ে চট্টগ্রাম রয়্যালসের ব্যাটিং লাইনআপ। দলীয় ১৮ রানের মধ্যেই দুই ওপেনার সাজঘরে ফেরেন। মোহাম্মদ নাঈম শেখ ১০ বলে ৯ রান করে আউট হন, আর মাহমুদুল হাসান জয় কোনো রান না করেই ফেরেন। হাসান নেওয়াজ ৭ বলে ১১ রান করে কিছুটা আশা জাগালেও সেটি দীর্ঘস্থায়ী হয়নি।
চতুর্থ উইকেটে উইকেটকিপার ব্যাটার জাহিদুজ্জামানকে নিয়ে মির্জা বেগ কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন। তবে দুজনের ধীরগতির ব্যাটিংয়ে ম্যাচ ক্রমেই চট্টগ্রামের হাতের নাগালের বাইরে চলে যায়। জাহিদুজ্জামান ১৩ বলে ১১ রান করে আউট হন। অন্যদিকে ৩৬ বলে ৩৯ রান করে বিদায় নেন মির্জা বেগ।
এরপর আর কেউই বড় কোনো জুটি গড়তে না পারলে, নির্ধারিত ওভারের অনেক আগেই ১১১ রানে গুটিয়ে যায় চট্টগ্রাম রয়্যালস। তাতে করে স্বপ্নভঙ্গ হয় তাদের প্রথম বিপিএল শিরোপা জয়ের, আর রাজশাহী ওয়ারিয়র্স উদযাপন করে তাদের দ্বিতীয় শিরোপার গৌরবময় মুহূর্ত।
বাংলাধারা/এসআর
