জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের দায়মুক্তি ও আইনি সুরক্ষা দিয়ে অধ্যাদেশ জারি
প্রকাশিত: জানুয়ারী ২৬, ২০২৬, ১২:১৩ দুপুর
ফাইল ছবি
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের (জুলাইযোদ্ধা) দায়মুক্তি ও আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রপতি ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান (সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ) অধ্যাদেশ, ২০২৬’ জারি করেছেন। এই অধ্যাদেশের মাধ্যমে গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণের কারণে দায়ের করা সব দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলা প্রত্যাহারের বিধান করা হয়েছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ সংক্রান্ত কোনো নতুন মামলা বা আইনি কার্যধারা দায়েরের সুযোগও আইনত বন্ধ করা হয়েছে।
রোববার (রাত) আইন মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগ থেকে অধ্যাদেশটির গেজেট প্রকাশ করা হয়। এর আগে গত ১৫ জানুয়ারি উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে অধ্যাদেশটির খসড়া অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল।
অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাই ও আগস্ট মাসে ছাত্র-জনতা ফ্যাসিস্ট শাসনের পতন ঘটিয়ে গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে যে সর্বাত্মক আন্দোলনে অংশ নেয়, তা পরবর্তীকালে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান’ হিসেবে স্বীকৃতি পায়। ওই সময় ফ্যাসিবাদী সরকারের নির্দেশে নির্বিচার হত্যাকাণ্ড ও সশস্ত্র আক্রমণের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা এবং জনশৃঙ্খলা পুনর্বহাল করা অনিবার্য হয়ে ওঠে। আত্মরক্ষাসহ প্রয়োজনীয় বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণের প্রেক্ষাপটেই এ আন্দোলন পরিচালিত হয়।
এই বাস্তবতায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের সংবিধানের ৪৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আইনি সুরক্ষা প্রদান জরুরি বিবেচনায় অধ্যাদেশটি জারি করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।
অধ্যাদেশ অনুযায়ী, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণের কারণে যদি কোনো গণঅভ্যুত্থানকারীর বিরুদ্ধে মামলা, অভিযোগ বা কার্যধারা দায়ের করা হয়ে থাকে, তবে পাবলিক প্রসিকিউটর বা সরকারনিযুক্ত আইনজীবীর প্রত্যয়ন সাপেক্ষে সংশ্লিষ্ট আদালতে আবেদন দাখিল করা হবে। আবেদন গৃহীত হলে আদালত ওই মামলায় আর কোনো কার্যক্রম গ্রহণ করবে না এবং মামলাটি প্রত্যাহার হয়েছে বলে গণ্য হবে। একই সঙ্গে অভিযুক্ত ব্যক্তি তাৎক্ষণিকভাবে অব্যাহতি বা খালাস পাবেন।
অধ্যাদেশে আরও বলা হয়েছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানকালে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ থাকলে তা জাতীয় মানবাধিকার কমিশনে দাখিল করা যাবে। কমিশন অভিযোগ তদন্তের ব্যবস্থা নেবে। তবে ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ, ২০২৫’- এ যাই থাকুক না কেন, যদি হত্যাকাণ্ডের শিকার ব্যক্তি কোনো প্রতিষ্ঠান বা বাহিনীর (পুলিশ বা অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী) সদস্য হন, তাহলে সংশ্লিষ্ট বাহিনীতে বর্তমানে বা পূর্বে কর্মরত কোনো কর্মকর্তাকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া যাবে না।
তদন্তের প্রয়োজনে আসামিকে গ্রেপ্তার বা হেফাজতে নেওয়ার প্রয়োজন হলে তদন্তকারী কর্মকর্তাকে যুক্তিসংগত কারণ দেখিয়ে কমিশনের পূর্বানুমোদন নিতে হবে।
কমিশনের তদন্তে যদি প্রমাণিত হয় যে অভিযোগটি বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অপরাধমূলক অপব্যবহার ছিল, তাহলে কমিশন প্রতিবেদন আকারে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট আদালতে পাঠাবে। আদালত সেটিকে পুলিশ প্রতিবেদন হিসেবে গণ্য করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেবে।
অন্যদিকে, তদন্তে যদি দেখা যায় যে অভিযোগে উল্লিখিত কাজ রাজনৈতিক প্রতিরোধের অংশ ছিল, তাহলে কমিশন প্রয়োজন মনে করলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য সরকারকে নির্দেশ দিতে পারবে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ঘটনায় আদালতে কোনো মামলা বা অন্য কোনো আইনি কার্যধারা গ্রহণ করা যাবে না।
অধ্যাদেশের উদ্দেশ্য ও বিধান কার্যকর করতে সরকার প্রয়োজনে বিধি প্রণয়ন করতে পারবে বলেও এতে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাংলাধারা/এসআর
