ঢাকা, বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২১ মাঘ ১৪৩২

অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিতে সশস্ত্র বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক

 প্রকাশিত: জানুয়ারী ২৬, ২০২৬, ০৫:৪৭ বিকাল  

ছবি: সংগৃহিত

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতের জন্য এক ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেছেন, এই সংবেদনশীল সময়ে একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও উৎসবমুখর নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সোমবার (২৬ জানুয়ারি) সেনাসদরে সশস্ত্র বাহিনীর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, জনগণের আস্থার প্রতীক হিসেবে সশস্ত্র বাহিনী অতীতের মতো এবারও পেশাদারিত্ব, নিরপেক্ষতা ও দায়িত্বশীলতার সর্বোচ্চ মান বজায় রেখে দায়িত্ব পালন করবে- এমন প্রত্যাশা সরকারের রয়েছে।

ড. ইউনূস মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। একই সঙ্গে দেশের শান্তি, স্থিতিশীলতা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সশস্ত্র বাহিনীর অবদান কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদ-পরবর্তী সময়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকা জাতির ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, দীর্ঘদিন ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত একটি জাতি ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণের আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেছে। গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন সেই আকাঙ্ক্ষার চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ। এই নির্বাচন শুধু প্রতিনিধি নির্বাচনের নয়, বরং ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রব্যবস্থা নির্মাণে জনগণের মতামত জানানোর একটি ঐতিহাসিক সুযোগ।

তিনি বলেন, এবারের নির্বাচনে তরুণ ভোটারের অংশগ্রহণ বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। পাশাপাশি এমন অনেক নাগরিক রয়েছেন, যারা দীর্ঘ সময় ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাননি। এ অবস্থায় ভোটারদের জন্য ভয়মুক্ত, নিরাপদ ও উৎসবমুখর পরিবেশ নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের নৈতিক ও সাংবিধানিক দায়িত্ব।

নির্বাচনকালীন দায়িত্ব পালনে সশস্ত্র বাহিনীর শীর্ষ নেতৃত্বকে স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়ে ড. ইউনূস বলেন, মাঠপর্যায়ের সব সিদ্ধান্ত হতে হবে আইনসম্মত, সংযত ও দায়িত্বশীল। কোনো ধরনের বিচ্যুতি যেন জনগণের আস্থা ক্ষুণ্ন না করে- সে বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানান তিনি।

প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনই গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের ভিত্তি। প্রতিটি নাগরিক যেন কোনো ভয় বা প্রভাব ছাড়াই তার ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে- এ জন্য প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের পাশাপাশি সশস্ত্র বাহিনীকে সর্বোচ্চ সহযোগিতার ভূমিকা পালন করতে হবে।

সশস্ত্র বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রসঙ্গে ড. ইউনূস বলেন, দীর্ঘ ফ্যাসিবাদী শাসনামলে বাহিনীগুলোর সক্ষমতা যথাযথভাবে বিকশিত হয়নি। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর অল্প সময়ের মধ্যেই সেই বাস্তবতার পরিবর্তনে কাজ শুরু করেছে। সশস্ত্র বাহিনীকে যুগোপযোগী ও আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তোলা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।

তিনি জানান, নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় সামরিক অস্ত্র ও সরঞ্জাম উৎপাদনের কারখানা স্থাপনের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। পাশাপাশি নেদারল্যান্ডস ও মালয়েশিয়ার সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। ইতালি, জাপান, থাইল্যান্ডসহ আরও কয়েকটি দেশের সঙ্গে অনুরূপ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের প্রক্রিয়া এগোচ্ছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে সশস্ত্র বাহিনীর সক্ষমতা ও আভিযানিক দক্ষতা বহুলাংশে বৃদ্ধি পাবে।

সেনাসদরের হেলমেট অডিটোরিয়ামে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান উপদেষ্টাকে স্বাগত জানান সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান, বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন এবং সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার লেফটেন্যান্ট জেনারেল এস এম কামরুল হাসান।

সভায় সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।

 

বাংলাধারা/এসআর