ঢাকা, বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২১ মাঘ ১৪৩২

ইনোভেশন কনসাল্টিংয়ের জরিপ

৪৭.৬ শতাংশ মানুষের চোখে ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক

 প্রকাশিত: জানুয়ারী ৩১, ২০২৬, ০৩:৩৮ দুপুর  

ফাইল ছবি

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর গঠিত সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান দায়িত্ব নিতে পারেন- এমন সম্ভাবনা দেখছেন প্রায় অর্ধেক ভোটার। একটি জাতীয় জরিপে অংশ নেওয়া ৪৭ দশমিক ৬ শতাংশ উত্তরদাতা তাকে ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখছেন। একই জরিপে ২২ দশমিক ৫ শতাংশ মানুষ মনে করেন, জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন।

শুক্রবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে এক সংবাদ সম্মেলনে ‘পিপলস ইলেকশন পালস সার্ভে (পিইপিএস) রাউন্ড–৩’-এর ফলাফল প্রকাশ করে বেসরকারি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ইনোভেশন কনসাল্টিং।

সংবাদ সম্মেলনে জরিপের প্রধান ফলাফল উপস্থাপন করেন প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও জরিপের প্রধান মো. রুবাইয়াত সারওয়ার। তিনি জানান, ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে ভোটারদের ভোটদানের আগ্রহ, রাজনৈতিক পরিবেশ এবং সম্ভাব্য ফলাফল সম্পর্কে জনমত তুলে ধরাই ছিল এই জরিপের মূল উদ্দেশ্য। আগের রাউন্ডগুলোর সঙ্গে তুলনা করে মতামতের পরিবর্তন বিশ্লেষণ করার জন্য রাউন্ড–৩ বিশেষভাবে নকশা করা হয়েছে।

জরিপে অংশ নেওয়া ৯৩ দশমিক ৩ শতাংশ উত্তরদাতা জানিয়েছেন, তারা আসন্ন নির্বাচনে ভোট দেবেন। আগের রাউন্ডে যারা ভোট দেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন, তাদের মধ্যে ৯৬ দশমিক ১ শতাংশ এবারও একই অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন। উল্লেখযোগ্যভাবে, আগের রাউন্ডে যারা ভোট দেবেন না বলেছিলেন, তাদের ৭৮ দশমিক ৫ শতাংশ এবার ভোট দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। আর আগে সিদ্ধান্তহীন থাকা উত্তরদাতাদের ৮৯ দশমিক ৭ শতাংশ এবার ভোট দিতে চান।

জেন-জি প্রজন্মের মধ্যে ভোটদানের আগ্রহ তুলনামূলক কম হলেও সামগ্রিকভাবে ভোটে অংশগ্রহণের হার বেশ উঁচু বলেই জরিপে উঠে এসেছে।

প্রায় ৬০ শতাংশ উত্তরদাতা গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন। তবে ২২ শতাংশ জানিয়েছেন, তারা এখনো গণভোটের বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন। জনসংখ্যাগত ও রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে সচেতনতা ও মতামতে পার্থক্য লক্ষ্য করা গেছে।

জরিপে ৭২ দশমিক ৩ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, সরকার একটি সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন করতে পারবে- যা আগের রাউন্ডের তুলনায় বেশি। স্থানীয় পর্যায়ে পুলিশ ও প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে আস্থা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৪ দশমিক ৪ শতাংশে। ভোটকেন্দ্রে নিরাপত্তা নিয়েও ইতিবাচক ধারণা তৈরি হয়েছে; ৮২ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, তারা নিরাপদে ভোট দিতে পারবেন।

আগামীকাল নির্বাচন হলে নিজেদের এলাকায় কোন দলের প্রার্থী জয়ী হতে পারেন- এই প্রশ্নে ৫২ দশমিক ৯ শতাংশ উত্তরদাতা বিএনপির প্রার্থীর নাম উল্লেখ করেছেন। তবে ২৩ দশমিক ৮ শতাংশ এ বিষয়ে এখনো নিশ্চিত নন। আগের রাউন্ডের তুলনায় বিএনপির সম্ভাব্য বিজয়ের হার বেড়েছে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ, আর জামায়াতের ক্ষেত্রে বেড়েছে ১ দশমিক ১ শতাংশ।

ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রী প্রসঙ্গে ৪৭ দশমিক ৬ শতাংশ তারেক রহমানের নাম উল্লেখ করেছেন। ২২ দশমিক ৫ শতাংশ ডা. শফিকুর রহমানের কথা বলেছেন। ২ দশমিক ৭ শতাংশ উত্তরদাতা এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামকে সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখছেন। তবে ২২ দশমিক ২ শতাংশ এখনো সিদ্ধান্তহীন- যা নির্বাচনী ফলাফল নিয়ে অনিশ্চয়তার প্রতিফলন।


জরিপে দেখা গেছে, ৭৪ দশমিক ২ শতাংশ ভোটার ইতোমধ্যে কোন দলকে ভোট দেবেন সে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে নারী ভোটারদের মধ্যে সিদ্ধান্তহীনতার হার তুলনামূলক বেশি- ৬৯ দশমিক ৭ শতাংশ। বিপরীতে পুরুষ ভোটারদের ৭৭ দশমিক ৫ শতাংশ সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেছেন।

ভোট পছন্দে পরিবর্তনের বিশ্লেষণে দেখা যায়, বিএনপি তাদের মূল সমর্থন ধরে রেখেছে এবং আগের রাউন্ডে জামায়াত বা এনসিপিকে সমর্থন করা কিছু ভোটারকেও আকৃষ্ট করতে সক্ষম হয়েছে। যদিও বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে পারস্পরিক ভোট স্থানান্তর ঘটেছে, মোট হিসাবে জামায়াতের ভোটব্যাংকে অস্থিরতা বিএনপির তুলনায় বেশি।

আগের আওয়ামী লীগ সমর্থকদের ৩২ দশমিক ৯ শতাংশ বিএনপিকে ভোট দেওয়ার সম্ভাবনা জানিয়েছেন, ১৩ দশমিক ২ শতাংশ জামায়াতের পক্ষে ঝুঁকেছেন এবং ৪১ দশমিক ৩ শতাংশ এখনো সিদ্ধান্তহীন।

জরিপ অনুযায়ী, বিএনপি ও তাদের জোট সম্ভাব্যভাবে ৫২ দশমিক ৮ শতাংশ ভোট পেতে পারে। জামায়াত ও তাদের জোট পেতে পারে ৩১ শতাংশ ভোট। ১৩ দশমিক ২ শতাংশ ভোটার এখনো তাদের পছন্দ প্রকাশ করেননি।

জরিপ বিশ্লেষকদের মতে, ভোটব্যাংকে এখনো অস্থিরতা রয়েছে এবং প্রচারণার কৌশল ও রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে বিএনপি ও জামায়াত জোটের ব্যবধান কমে আসতে পারে, যা শেষ পর্যন্ত আসন বণ্টনে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

সংবাদ সম্মেলনে জরিপের ফলাফল নিয়ে আলোচনা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ এম. শাহান, ভয়েস ফর রিফর্মের যুগ্ম আহ্বায়ক ফাহিম মাশরুর, ব্রেইনের নির্বাহী পরিচালক শফিকুল রহমান, রাজনৈতিক বিশ্লেষক জ্যোতি রহমান এবং ইনোভেশন কনসাল্টিংয়ের পোর্টফোলিও ডিরেক্টর তাসমিয়া রহমান।

 

বাংলাধারা/এসআর