ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২২ মাঘ ১৪৩২

ফেনীর তিন আসনে ভোটের অঙ্ক

আবুল কালাম আজাদ শুভ

 প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ০৫, ২০২৬, ০৩:০৬ দুপুর  

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে ফেনী জেলায়। জেলার তিনটি সংসদীয় আসন—ফেনী-১, ফেনী-২ ও ফেনী-৩—ভৌগোলিক অবস্থান, জনবিন্যাস ও ভোটার চরিত্রের দিক থেকে একে অপরের থেকে ভিন্ন। এই ভিন্নতাই প্রতিটি আসনে নির্বাচনী সমীকরণকে করে তুলেছে আলাদা ও গুরুত্বপূর্ণ।

নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্যানুযায়ী, ফেনী জেলায় মোট সংসদীয় আসন ৩টি। এই তিন আসনে মোট ভোটারের সংখ্যা ১৩ লাখ ৩০ হাজার ৯২৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ লাখ ৮৭ হাজার ৮৬৭ জন এবং নারী ভোটার ৬ লাখ ৪৩ হাজার ৫৭ জন। অর্থাৎ জেলার মোট ভোটারের প্রায় অর্ধেকই নারী, যা নির্বাচনী ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

ফেনী-১: সীমান্ত জনপদের রাজনৈতিক গুরুত্ব

খালেদা জিয়ার সাবেক সংসদীয় আসন হিসেবে পরিচিত ফেনী-১ (আসন নং: ২৬৫) জেলার উত্তর-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত। পরশুরাম, ছাগলনাইয়া ও ফুলগাজী—এই তিনটি উপজেলা নিয়ে গঠিত আসনটি ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় এর রাজনৈতিক গুরুত্ব আলাদা।
এখানকার ভোটারদের প্রধান ভাবনার মধ্যে রয়েছে সীমান্ত নিরাপত্তা, কৃষি উন্নয়ন, কর্মসংস্থান এবং মুহুরী নদীর ভাঙন প্রতিরোধ। গ্রামীণ ভোটারদের প্রাধান্য থাকায় ব্যক্তি-ইমেজ ও স্থানীয় উন্নয়ন প্রতিশ্রুতি এখানে বড় ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করে।

ফেনী-২: সদরের উন্নয়ন বনাম নাগরিক সংকট

ফেনী-২ (আসন নং: ২৬৬) শুধুমাত্র ফেনী সদর উপজেলা নিয়ে গঠিত। এটি জেলার প্রশাসনিক ও বাণিজ্যিক প্রাণকেন্দ্র হওয়ায় এই আসনের রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণকে জেলার রাজনীতির ‘কাণ্ডারি’ হিসেবে দেখা হয়।
শহরকেন্দ্রিক এই আসনে ভোটারদের প্রধান প্রত্যাশা উন্নত নাগরিক সেবা, যানজট নিরসন, জলাবদ্ধতা, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা ব্যবস্থার মানোন্নয়ন। সব দলের শক্তিশালী ঘাঁটি থাকায় এখানে প্রার্থীদের জনপ্রিয়তা ও রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতার কঠিন পরীক্ষা দিতে হয়।

ফেনী-৩: উপকূলীয় অর্থনীতি ও শিল্পাঞ্চলের মেলবন্ধন

জেলার দক্ষিণ ও পশ্চিমাঞ্চলে বিস্তৃত ফেনী-৩ (আসন নং: ২৬৭) গঠিত হয়েছে দাগনভূঞা ও সোনাগাজী উপজেলা নিয়ে। উপকূলঘেঁষা এই অঞ্চলে মৎস্য, কৃষি ও শিল্পাঞ্চল—বিশেষ করে অর্থনৈতিক অঞ্চল—ভোটারদের ভাবনায় বড় জায়গা দখল করে আছে।
এখানকার ভোটের সমীকরণে উন্নয়ন প্রকল্প, কর্মসংস্থান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বড় প্রভাবক হিসেবে কাজ করে।

ফেনীর তিনটি আসনই নিজ নিজ ভৌগোলিক ও সামাজিক বৈশিষ্ট্যের কারণে অনন্য। ফলে সাধারণ ভোটারদের মন জয় করতে প্রার্থীদের প্রতিটি এলাকায় ভিন্ন ভিন্ন চাহিদা ও প্রত্যাশাকে সামনে রেখে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা তুলে ধরতে হচ্ছে। ভোটার সংখ্যা ও নারী ভোটারের শক্ত অবস্থান বিবেচনায় নিয়ে এবারের নির্বাচন ফেনীতে বাড়তি গুরুত্ব পাচ্ছে রাজনৈতিক অঙ্গনে।