ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২২ মাঘ ১৪৩২

পল্লবীতে পারিবারিক ট্র্যাজেডি: দুই শিশুসহ বাবা-মায়ের মরদেহ উদ্ধার, হত্যার পর আত্মহত্যার সন্দেহ

নিজস্ব প্রতিবেদক

 প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ০৫, ২০২৬, ০৪:৫৯ দুপুর  

ছবি: সংগৃহিত

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী এলাকায় হৃদয়বিদারক এক পারিবারিক ট্র্যাজেডির ঘটনা ঘটেছে। মিরপুর-১১ নম্বর ওয়াপদা বিহারী ক্যাম্প থেকে দুই শিশু সন্তানসহ একই পরিবারের চারজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে পুলিশের ধারণা, দুই শিশুকে হত্যার পর বাবা-মা আত্মহত্যা করেছেন।

বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুর আনুমানিক ১টার দিকে ওয়াপদা বিহারী ক্যাম্পের বি-ব্লকের একটি টিনশেড বাসা থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়।

নিহতরা হলেন- মোহাম্মদ মাসুম (৩৫), তার স্ত্রী ফাতেমা আক্তার সুমি (৩০) এবং তাদের দুই ছেলে; চার বছর বয়সী মিনহাজ ও দুই বছর বয়সী আসাদ।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১২টার মধ্যে কোনো এক সময় এ মৃত্যুর ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। দীর্ঘ সময় ঘর বন্ধ থাকায় প্রতিবেশীদের সন্দেহ হলে তারা পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘরের ভেতর থেকে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, নিহত পরিবারটি দীর্ঘদিন ধরে ওয়াপদা বিহারী ক্যাম্পে ভাড়া বাসায় বসবাস করছিল। মোহাম্মদ মাসুম পেশায় রিকশাচালক ছিলেন এবং তার স্ত্রী ফাতেমা আক্তার সুমি বিভিন্ন বাসাবাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ করতেন। সীমিত আয়ের সংসার চালাতে গিয়ে তারা একাধিক সমিতি ও ব্যক্তির কাছ থেকে ঋণ নিয়েছিলেন বলে জানান স্থানীয়রা।

প্রতিবেশীদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় প্রতিদিনই ঋণের কিস্তির টাকা আদায়ের জন্য কেউ না কেউ তাদের বাসায় আসতেন। এ নিয়ে পরিবারটি মানসিক চাপে ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। স্থানীয়দের অনেকের ধারণা, চরম আর্থিক সংকট ও হতাশা থেকেই এমন মর্মান্তিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেন স্বামী-স্ত্রী।

পল্লবী থানার ডিউটি অফিসার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) শাহীন আলম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে। প্রাথমিকভাবে এটি একটি পারিবারিক হত্যাকাণ্ড ও আত্মহত্যার ঘটনা বলে মনে হচ্ছে। তবে মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত হতে ময়নাতদন্ত করা হবে।

তিনি আরও জানান, মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

ঘটনাটি এলাকায় গভীর শোক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। একই সঙ্গে দারিদ্র্য ও ঋণের চাপে একটি পরিবারের এমন করুণ পরিণতি সামাজিকভাবে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

বাংলাধারা/এসআর