ঢাকা, বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২১ মাঘ ১৪৩২

মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় দ্বিতীয় দিনের মতো সাক্ষ্য দিচ্ছেন ব্রিগেডিয়ার আযমী

নিজস্ব প্রতিবেদক

 প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ০২, ২০২৬, ১২:৫৮ দুপুর  

ছবি: সংগৃহিত

জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেন্টার (জেআইসি)-এ গুম ও নির্যাতনের ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দ্বিতীয় দিনের মতো সাক্ষ্য দিচ্ছেন অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুল্লাহিল আমান আযমী। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ তিনি তার অসমাপ্ত জবানবন্দি উপস্থাপন করছেন।

ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে গঠিত দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এ সাক্ষ্য গ্রহণ করা হচ্ছে। এই মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সাবেক ও বর্তমান মোট ১২ জন সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে।

রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) মামলার তৃতীয় সাক্ষী হিসেবে নিজের জবানবন্দি শুরু করেন ব্রিগেডিয়ার আযমী। সেদিন অসমাপ্ত অবস্থায় তার সাক্ষ্য আজ পর্যন্ত মুলতবি রাখেন ট্রাইব্যুনাল। জবানবন্দিতে তিনি সেনাবাহিনী থেকে বরখাস্তের প্রক্রিয়া, নিজের অবস্থান থেকে কীভাবে তাকে আটক করা হয় এবং কোথায় নিয়ে গিয়ে গুম করে রাখা হয়েছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত বর্ণনা দেন।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তার বিরুদ্ধে জারি করা অবৈধ বরখাস্তের আদেশ বাতিল করে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবসর প্রদান করে।

আজকের শুনানিতে প্রসিকিউশনের পক্ষে উপস্থিত রয়েছেন প্রধান প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম। তার সঙ্গে প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম, শাইখ মাহদীসহ অন্য প্রসিকিউটররা আদালতে উপস্থিত আছেন। একইসঙ্গে আসামিপক্ষের আইনজীবীরাও শুনানিতে অংশ নিচ্ছেন।

এদিকে, আজ সকালে গ্রেপ্তার থাকা তিন আসামিকে ঢাকার সেনানিবাসে অবস্থিত বিশেষ কারাগার থেকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। তারা হলেন- ডিজিএফআইয়ের সাবেক পরিচালক মেজর জেনারেল শেখ মো. সরওয়ার হোসেন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহবুবুর রহমান সিদ্দিকী এবং ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ তানভির মাজাহার সিদ্দিকী।

এর আগে, গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর এই মামলায় মোট ১৩ জন আসামির বিরুদ্ধে পাঁচটি অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। তবে অভিযোগভুক্ত ১০ জন আসামি এখনও পলাতক রয়েছেন। তাদের অনুপস্থিতিতেই মামলার বিচার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে ট্রাইব্যুনাল।

রাষ্ট্রপক্ষের দাবি, জেআইসি-তে সংঘটিত গুম ও নির্যাতনের ঘটনাগুলো মানবতাবিরোধী অপরাধের শামিল। এ মামলার বিচার দেশের বিচারব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বাংলাধারা/এসআর