তারেক রহমানের জনসভায় লোকে লোকারণ্য, উৎসবের নগরীতে রূপ নিল যশোর
প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ০২, ২০২৬, ০৩:৩৯ দুপুর
ছবি: সংগৃহিত
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্বাচনী জনসভাকে ঘিরে যশোরে সৃষ্টি হয়েছে অভূতপূর্ব জনসমাগম। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকেই যশোর উপশহর ডিগ্রি কলেজের বিশাল মাঠে নেতাকর্মীদের ঢল নামতে শুরু করে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পুরো এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়, আর স্লোগানে স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে যশোর শহর ও আশপাশের জনপদ।
সকাল থেকেই রঙিন সাজে, দলীয় প্রতীক ও ব্যানার হাতে নেচে-গেয়ে নেতাকর্মীরা সমাবেশস্থলের দিকে আসতে থাকেন। কোথাও ঢোল, কোথাও বাঁশি, সব মিলিয়ে জনসভাস্থল ও আশপাশের এলাকায় তৈরি হয় এক উৎসবমুখর পরিবেশ। ‘তারেক জিয়া আসছে, যশোরবাসী হাসছে’, ‘তারেক জিয়া আসছে, বাংলাদেশ হাসছে’, এমন স্লোগানে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে গোটা এলাকা।
সোমবার বেলা ১১টার পর থেকে উপশহর কলেজ মাঠে জনসমাগম আরও ঘনীভূত হতে থাকে। বিশেষ করে নারীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। অনেকের কপালে বাঁধা ফিতা, মাথায় টুপি, হাতে জাতীয় পতাকা ও দলীয় পতাকা। বিভিন্ন গ্রুপ নিজেদের মতো করে রঙিন পোশাক ও সাজে সজ্জিত হয়ে জনসভায় যোগ দেন।
জনসভাস্থলে সকাল থেকেই প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আদলে সজ্জিত ছোট ছোট শিশুদের ঘুরে বেড়াতে দেখা যায়। কেউ কেউ পুরো শরীরে পাকা ধানের শীষের প্রতীক জড়িয়ে এসেছেন। আবার অনেকের হাতে ছিল লাল-সবুজের জাতীয় পতাকা ও বিএনপির দলীয় পতাকা। সবার মুখে একটাই প্রত্যাশা, প্রিয় নেতাকে এক নজর দেখা এবং তার বক্তব্য শোনা।
যশোর জেলার আটটি উপজেলার পাশাপাশি মাগুরা, ঝিনাইদহ ও নড়াইল জেলা থেকেও বিপুলসংখ্যক বিএনপি নেতাকর্মী ও সমর্থক জনসভায় অংশ নিতে এসেছেন বলে জানিয়েছে দলীয় সূত্র।
বাঘারপাড়ার জহুরপুর থেকে আসা বিএনপি কর্মী নুরনবী বলেন, দীর্ঘ ত্যাগ ও সংগ্রামের পর বিএনপির চেয়ারম্যান দেশে ফিরেছেন। আজই প্রথম সরাসরি তাকে দেখবো। যশোর থেকেই তিনি আগামীর বাংলাদেশ গড়ার পরিকল্পনা দেবেন, এ বিশ্বাস থেকেই এসেছি। তার আগমনকে ঘিরে পুরো যশোর যেন উৎসবের নগরী।
মণিরামপুর থেকে আসা আজগর আলী জানান,ফজরের নামাজ পড়েই রওনা দিয়েছি। সামনে থেকে তারেক রহমানকে দেখবো, তার বক্তব্য শুনবো, এটাই আমার স্বপ্ন। তিনি যেভাবে কঠিন সময়ে দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন, আগামী দিনে প্রধানমন্ত্রী হয়ে দেশকে আরও ভালোভাবে নেতৃত্ব দেবেন বলে আমরা বিশ্বাস করি।
অভয়নগর থেকে আসা বিএনপি কর্মী রিয়াজুল ইসলাম বলেন,দীর্ঘদিন পর বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে এমন উৎসবের আমেজ দেখা যাচ্ছে। প্রিয় নেতার মুখ থেকে নির্বাচনী বার্তা এবং আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মাণের দিকনির্দেশনা শোনার জন্যই এখানে এসেছি।
এদিকে জনসভাকে কেন্দ্র করে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে প্রশাসন। সোমবার ভোর থেকেই প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তারা সমাবেশস্থলে অবস্থান নেন। জেলা পুলিশ ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে যশোর-মাগুরা, যশোর-ঝিনাইদহ, যশোর-খুলনা ও যশোর-নড়াইল সড়কে। দূর-দূরান্ত থেকে আসা নেতাকর্মীদের গাড়িবহর নির্দিষ্ট স্থানে রাখার জন্য দিকনির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।
এর আগে র্যাবের একটি ডগস্কোয়াড টিম জনসভাস্থল তল্লাশি করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে। জেলা পুলিশ জানিয়েছে, যশোর উপশহরের বিরামপুর প্রাইমারি স্কুল মাঠকে কেন্দ্র করে তিন স্তরের নিরাপত্তাবলয় গড়ে তোলা হয়েছে। এখানেই তারেক রহমানের হেলিকপ্টার অবতরণের কথা রয়েছে। সেখান থেকে তিনি লাল-সবুজ রঙের বিশেষ বাসে করে জনসভাস্থলে যাবেন।
নেতাকর্মীদের মতে, যশোরের এই জনসভা শুধু একটি নির্বাচনী সমাবেশ নয়, বরং দীর্ঘদিন পর বিএনপির রাজনীতিতে নতুন গতি ও আত্মবিশ্বাসের প্রতিফলন।
বাংলাধারা/এসআর
