সাত দিনের মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই শেষে না ফেরার দেশে জাবি ছাত্রদল নেতা রনি
প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ০২, ২০২৬, ০৪:১৬ দুপুর
ছবি: সংগৃহিত
টানা সাত দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে অবশেষে না ফেরার দেশে চলে গেলেন আগুনে দগ্ধ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) শাখা ছাত্রদল নেতা সাইফুল ইসলাম রনি।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহত রনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের ৪৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন। পাশাপাশি তিনি জাবি শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য হিসেবে সক্রিয়ভাবে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইনস্টিটিউটের আইসিইউতে দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা. জহির উদ্দিন রনির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, তার শারীরিক অবস্থা শুরু থেকেই ছিল অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। তিনি বলেন, রনির শ্বাসনালীসহ শরীরের বড় একটি অংশ দগ্ধ হয়েছিল। ফলে হার্ট, কিডনি ও ফুসফুসসহ গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলো ধীরে ধীরে অকেজো হয়ে পড়ে। শেষ দিকে রক্তে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়লে লাইফ সাপোর্টে রেখেও তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
এর আগে, গত ১ ফেব্রুয়ারি (রোববার) একই ঘটনায় দগ্ধ অভিযুক্ত যুবক আব্দুস সোবহান রায়হানও চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তার মৃত্যুর মধ্য দিয়ে ওই মর্মান্তিক ঘটনার ভয়াবহতা আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
উল্লেখ্য, গত ২৭ জানুয়ারি রাত আনুমানিক পৌনে ৯টার দিকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন ইসলামনগর এলাকায় এক হৃদয়বিদারক ঘটনার সূত্রপাত হয়। স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুস সোবহান রায়হান পারিবারিক কলহের জেরে নিজের ঘরের ভেতরে অকটেন ছিটিয়ে আগুন দেওয়ার চেষ্টা করেন।
ঘটনাটি জানতে পেরে রনিসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী ও স্থানীয় প্রতিবেশী তাকে বাধা দিতে ওই ঘরে প্রবেশ করেন এবং পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন। তবে একপর্যায়ে রায়হান লাইটার দিয়ে ঘরে আগুন ধরিয়ে দিলে মুহূর্তের মধ্যে আগুন চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। এতে রনিসহ রায়হান নিজে এবং রাহাত ও হাসিনুর নামে আরও দুজন গুরুতর দগ্ধ হন।
ঘটনার পর দগ্ধ চারজনকেই উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। কিন্তু চিকিৎসাধীন অবস্থায় একে একে দুজনের মৃত্যু হলো।
রনির মৃত্যুতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ছাত্রদলসহ বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীরা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
বাংলাধারা/এসআর
