ঢাকা, বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২১ মাঘ ১৪৩২

নির্বাচন ও রমজান সামনে রেখে রেমিট্যান্সে জোয়ার, জানুয়ারিতে এলো ৩.১৭ বিলিয়ন ডলার

নিজস্ব প্রতিবেদক

 প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ০১, ২০২৬, ০৮:২৯ রাত  

ছবি: সংগৃহিত

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও পবিত্র মাহে রমজানকে সামনে রেখে প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাঠানো রেমিট্যান্সে স্পষ্ট চাঙাভাব দেখা যাচ্ছে। চলতি বছরের প্রথম মাস জানুয়ারিতে দেশে এসেছে ৩ দশমিক ১৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রবাসী আয়, যা দেশীয় মুদ্রায় প্রায় ৩৮ হাজার ৬৭৪ কোটি টাকা। একক মাস হিসেবে এটি বাংলাদেশের ইতিহাসে তৃতীয় সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স প্রবাহ।

রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

বাংলাদেশ ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, নির্বাচনকালীন ব্যয় এবং রমজানে পরিবারের বাড়তি খরচ মেটাতে প্রবাসীরা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় বেশি অর্থ দেশে পাঠাচ্ছেন। ফলে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ধারাবাহিকভাবে রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই ধারা অব্যাহত থাকলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা করছেন অর্থনীতিবিদরা।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, এর আগে ডিসেম্বর মাসে দেশে প্রবাসী আয় এসেছিল ৩ দশমিক ২২ বিলিয়ন ডলার, যা একক মাস হিসেবে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। আর দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স আসে গত বছরের মার্চে, ৩ দশমিক ২৯ বিলিয়ন ডলার, তখন ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে প্রবাসীরা উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ পাঠিয়েছিলেন।

সার্বিক হিসাবে সদ্য সমাপ্ত ২০২৫ সালে দেশে মোট প্রবাসী আয় দাঁড়িয়েছে ৩২ দশমিক ৮২ বিলিয়ন ডলারে, যা প্রায় দেশের বৈদেশিক মুদ্রার মজুতের সমান। এটি দেশের অর্থনীতির জন্য একটি বড় ইতিবাচক সূচক হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

চলতি অর্থবছরে মাসভিত্তিক রেমিট্যান্সের হিসাব অনুযায়ী,

জুলাইয়ে এসেছে ২ দশমিক ৪৭ বিলিয়ন ডলার,

আগস্টে ২ দশমিক ৪২ বিলিয়ন ডলার,

সেপ্টেম্বরে ২ দশমিক ৬৮ বিলিয়ন ডলার,

অক্টোবরে ২ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন ডলার এবং

নভেম্বরে ২ দশমিক ৮৮ বিলিয়ন ডলার।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকেই প্রবাসী আয়ের প্রবৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। ব্যাংক খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, অর্থ পাচার কমে আসা এবং অবৈধ হুন্ডি ব্যবসার দৌরাত্ম্য হ্রাস পাওয়ায় প্রবাসীরা এখন বেশি করে বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেল ব্যবহার করছেন। পাশাপাশি ডলারের বিনিময় হার কয়েক মাস ধরে স্থিতিশীল থাকায় প্রবাসী আয়ের বড় অংশ এখন আনুষ্ঠানিক ব্যবস্থার মাধ্যমে দেশে আসছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত সময়ে প্রবাসীরা মোট ১৯ দশমিক ৪৪ বিলিয়ন ডলার দেশে পাঠিয়েছেন। যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ২১ দশমিক ৮ শতাংশ বেশি। আগের অর্থবছরে একই সময়ে রেমিট্যান্স এসেছিল ১৫ দশমিক ৯৬ বিলিয়ন ডলার।

এদিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩২ দশমিক ৬২ বিলিয়ন ডলার। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিপিএম-৬ পদ্ধতি অনুযায়ী হিসাব করলে রিজার্ভের পরিমাণ বর্তমানে প্রায় ২৮ বিলিয়ন ডলার।

অর্থনীতিবিদদের মতে, রেমিট্যান্সের এই ইতিবাচক প্রবণতা অব্যাহত থাকলে দেশের বৈদেশিক লেনদেন ভারসাম্য, আমদানি ব্যয় ব্যবস্থাপনা এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় বড় ভূমিকা রাখবে।

বাংলাধারা/এসআর