সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি হস্তান্তরে বাংলাদেশ-জাপান ঐতিহাসিক চুক্তি
প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ০৩, ২০২৬, ১০:১৮ রাত
ছবি: সংগৃহিত
বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি হস্তান্তর সংক্রান্ত একটি ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে, যা দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারিত্বকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেল। এই চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা আধুনিকীকরণ প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হবে এবং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নিরাপত্তা জোরদারে দু’দেশের সহযোগিতা আরও সুসংহত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা সেনানিবাসে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের (এএফডি) সার্বিক তত্ত্বাবধানে আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তিটি সম্পন্ন হয়। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
আইএসপিআর জানায়, বাংলাদেশের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার লেফটেন্যান্ট জেনারেল এস এম কামরুল হাসান। জাপানের পক্ষে স্বাক্ষর করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইডা শিনিচি। চুক্তি স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ও জাপানের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব ও পারস্পরিক আস্থার সম্পর্ক আরও দৃঢ় হলো।
সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ সূত্র জানায়, ২০২৩ সাল থেকে উভয় দেশের নিবিড় ও ধারাবাহিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ফল হিসেবেই এই চুক্তি বাস্তবায়ন সম্ভব হয়েছে। এটি দুই দেশের মধ্যে গভীর আস্থা ও সহযোগিতার প্রতিফলন, যা বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের দূরদর্শী ও কার্যকর কূটনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
চুক্তিটি জাতিসংঘ সনদের নীতিমালার সঙ্গে সম্পূর্ণ সামঞ্জস্য রেখে সম্পাদিত হয়েছে। এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষা, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব সুরক্ষা এবং প্রতিরক্ষা খাতে উন্নত প্রযুক্তি ও সরঞ্জাম অধিগ্রহণে একটি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে উঠবে। একই সঙ্গে যৌথ গবেষণা ও উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনার পথও সুগম হবে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, এই চুক্তির ফলে দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশ ও জাপানের কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও গভীর হবে, যা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও বৈশ্বিক নিরাপত্তায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। পাশাপাশি সামরিক বিশেষজ্ঞ ও অভিজ্ঞতা বিনিময় বাড়বে, যা বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
চুক্তি প্রসঙ্গে জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, এটি প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে একটি সুস্পষ্ট ও কার্যকর আইনি কাঠামো তৈরি করবে। এর ফলে আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষাসহ উভয় দেশের যৌথভাবে নির্ধারিত বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন সহজ হবে।
চুক্তিতে প্রতিটি নির্দিষ্ট হস্তান্তরের প্রক্রিয়া, নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা এবং হস্তান্তরিত সরঞ্জাম ও প্রযুক্তির সঠিক ও নির্ধারিত ব্যবহারের মৌলিক নীতিমালা বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশেষ করে তৃতীয় কোনো পক্ষের কাছে এসব সরঞ্জাম বা প্রযুক্তি হস্তান্তর কিংবা নির্ধারিত উদ্দেশ্যের বাইরে ব্যবহারের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করার বিষয়টি এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
জাপান সরকার আশা প্রকাশ করেছে, এই চুক্তির ফলে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি খাতে দুই দেশের সহযোগিতা আরও ঘনিষ্ঠ হবে। একই সঙ্গে এটি জাপানের প্রতিরক্ষা শিল্পের উৎপাদন সক্ষমতা ও প্রযুক্তিগত মান বজায় রাখা ও উন্নয়নে সহায়ক হবে, যা দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে মনে করছে টোকিও।
সামগ্রিকভাবে, এই চুক্তিকে বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে প্রতিরক্ষা, নিরাপত্তা ও কৌশলগত সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।
বাংলাধারা/এসআর
