ঢাকা, বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২১ মাঘ ১৪৩২

পবিত্র লাইলাতুল বরাতের রজনী যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হচ্ছে

নিজস্ব প্রতিবেদক

 প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ০৪, ২০২৬, ০১:০৮ রাত  

ফাইল ছবি

আজ মঙ্গলবার দিবাগত রাতে সারা দেশে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হচ্ছে পবিত্র লাইলাতুল বরাত। হিজরি শাবান মাসের ১৪ ও ১৫ তারিখের মধ্যবর্তী এই রাত মুসলমানদের কাছে শবে বরাত বা ‘সৌভাগ্যের রজনী’ হিসেবে পরিচিত। এ রাতকে আরবি ভাষায় বলা হয় ‘লাইলাতুল বরাত’- অর্থাৎ মুক্তি ও কল্যাণের রাত।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মতে, শাবান মাসের মধ্যরাতের এই রজনী অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, এ রাতে মহান আল্লাহ তায়ালা তাঁর বান্দাদের জন্য রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের দরজা উন্মুক্ত করে দেন। মুমিন মুসলমানদের পাপমোচন, জীবন ও রিজিকের ফয়সালা এবং ভবিষ্যৎ কল্যাণ এ রাতে নির্ধারিত হয় বলে বিশ্বাস করা হয়। সে কারণে এ রাতকে মুক্তির রাত হিসেবে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।

পবিত্র মাহে রমজানের আগমনী বার্তা বহন করে শাবান মাস। তাই শাবানকে রমজানের প্রস্তুতির মাস হিসেবেও বিবেচনা করা হয়। শবে বরাতের মাধ্যমে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা আত্মশুদ্ধি, তওবা ও ইবাদতের মাধ্যমে রমজানের জন্য নিজেদের প্রস্তুত করেন।

পবিত্র শবে বরাত উপলক্ষে বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এ উপলক্ষে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস দেশবাসী ও মুসলিম উম্মাহর প্রতি শুভেচ্ছা জানিয়ে এক বাণী দিয়েছেন। তিনি বলেন, পবিত্র শবে বরাত আল্লাহর রহমত লাভের এক অসাধারণ সুযোগ। এ মহিমান্বিত রাতে ইবাদত-বন্দেগি, দান-সদকা ও আত্মসমালোচনার মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করা সম্ভব। ব্যক্তি ও সমাজজীবনে কল্যাণ বয়ে আনতে এই রাতের শিক্ষাকে কাজে লাগানোর আহ্বান জানান তিনি।

প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, তওবা ও আত্মশুদ্ধির মাধ্যমে গুনাহ থেকে মুক্ত হয়ে আল্লাহ তায়ালার অসীম অনুগ্রহ, বরকত ও মাগফিরাত লাভের চেষ্টা করা উচিত।

পবিত্র লাইলাতুল বরাত উপলক্ষে দেশের মসজিদগুলোতে নফল নামাজ, পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত, জিকির ও বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হচ্ছে। অনেক ধর্মপ্রাণ মুসলমান সন্ধ্যার পর কবরস্থানে গিয়ে মৃত স্বজনদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছেন।

এ উপলক্ষে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। মাগরিবের নামাজের পর ওয়াজ মাহফিলের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হবে। সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে শবে বরাতের ফজিলত, গুরুত্ব ও তাৎপর্য নিয়ে আলোচনা করবেন বাদামতলী শাহজাদা লেন জামে মসজিদের খতিব মুফতি মাওলানা নজরুল ইসলাম কাসেমী। রাত ৮টা ৩০ মিনিটে শবে বরাতের শিক্ষা, করণীয় ও বর্জনীয় বিষয়ে ওয়াজ করবেন ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক আ. ছালাম খান।

ব্যক্তিগত নফল ইবাদত ও জিকির-আসকারের জন্য বায়তুল মোকাররম মসজিদ সারা রাত মুসল্লিদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। ফজরের নামাজের পর আখেরি মোনাজাতের মাধ্যমে জাতীয় মসজিদের অনুষ্ঠানমালা শেষ হবে, যা পরিচালনা করবেন সিনিয়র পেশ ইমাম মাওলানা মুহাম্মদ মিজানুর রহমান।

এ ছাড়া ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়, ইসলামিক মিশন কেন্দ্র এবং ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমিতে অনুরূপ আলোচনা সভা, ওয়াজ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।

পবিত্র শবে বরাত উপলক্ষে বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতারসহ বিভিন্ন বেসরকারি টিভি চ্যানেল ও রেডিওতে বিশেষ ধর্মীয় অনুষ্ঠান সম্প্রচার করা হচ্ছে।

এই মহিমান্বিত রাতে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা নফল নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত, জিকির ও মোনাজাতের মাধ্যমে মহান আল্লাহর রহমত ও নৈকট্য কামনা করছেন। মুসলিম উম্মাহর সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনায় সারা দেশের মসজিদে মসজিদে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হচ্ছে।


বাংলাধারা/এসআর