ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২২ মাঘ ১৪৩২

নির্বাচনে ডিজিটাল প্রচারণায় কড়াকড়ি: ফেসবুক বুস্টিংসহ অনলাইন ব্যয়ের পূর্ণ হিসাব চায় নির্বাচন কমিশন

নিজস্ব প্রতিবেদক

 প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ০৫, ২০২৬, ০৮:১৫ সকাল  

ছবি: সংগৃহিত

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণার বিষয়ে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের আচরণ বিধিমালা যথাযথভাবে প্রতিপালনের পাশাপাশি ফেসবুক বুস্টিংসহ সব ধরনের ডিজিটাল প্রচারণার ব্যয়ের বিস্তারিত হিসাব নির্বাচন কমিশনে দাখিল করতে হবে।

নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের পরিচালক (জনসংযোগ) ও তথ্য প্রদানকারী কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন মল্লিক বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) গণমাধ্যমকে জানান, এ সংক্রান্ত নির্দেশনা দিয়ে সব রিটার্নিং অফিসারের কাছে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা, ২০২৫-এর বিধি ১৬ অনুযায়ী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে কোনো প্রার্থী, তার নির্বাচনী এজেন্ট কিংবা প্রার্থীর পক্ষে অন্য কেউ নির্বাচনী প্রচারণা চালাতে পারবেন। তবে সে ক্ষেত্রে প্রচারণা শুরুর আগেই সংশ্লিষ্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নাম, অ্যাকাউন্ট আইডি, ই-মেইল ঠিকানাসহ প্রয়োজনীয় সব শনাক্তকরণ তথ্য রিটার্নিং অফিসারের কাছে জমা দিতে হবে।

এ ছাড়া আচরণ বিধিমালার বিধি ২২-এর উপবিধি (২)-এ নির্বাচনী ব্যয়ের বিষয়ে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে— কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী, নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল, দল মনোনীত প্রার্থী, স্বতন্ত্র প্রার্থী কিংবা তাদের পক্ষে অন্য কোনো ব্যক্তি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নির্বাচনসংক্রান্ত কনটেন্ট তৈরি, বিজ্ঞাপন প্রদান, বুস্টিং, স্পন্সরশিপসহ যেকোনো ধরনের ডিজিটাল প্রচারণা চালালে, তার জন্য ব্যয়িত অর্থ সামগ্রিক নির্বাচনী ব্যয়ের অংশ হিসেবে গণ্য হবে এবং তা নির্বাচন কমিশনের কাছে দাখিল করতে হবে।

নির্দেশনায় আরও বলা হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার-প্রচারণার জন্য যে ব্যয় হবে, তা নির্বাচনী ব্যয়সীমার অন্তর্ভুক্ত করে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসারের কাছে জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এই বিধান লঙ্ঘিত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে বলেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া নির্বাচন কমিশন রিটার্নিং অফিসারদের নির্দেশ দিয়েছে, কোন রাজনৈতিক দল বা প্রার্থী কোন কোন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে প্রচারণা চালাচ্ছে, সে সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের জনসংযোগ শাখায় পাঠাতে।

নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনিয়ন্ত্রিত ও অঘোষিত ব্যয় রোধ, নির্বাচনী ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং সমান সুযোগের পরিবেশ বজায় রাখতেই এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কমিশনের মতে, ডিজিটাল প্রচারণা এখন নির্বাচনী প্রচারের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হওয়ায় এ খাতে শৃঙ্খলা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি।

বাংলাধারা/এসআর