ঢাকা, বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২১ মাঘ ১৪৩২

আধিপত্যের সংঘর্ষে প্রাণ গেল সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থীর, রায়পুরায় রক্তক্ষয়ী সহিংসতায় উত্তপ্ত এলাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক

 প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ০৪, ২০২৬, ০১:৪৬ দুপুর  

ছবি: সংগৃহিত

নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলায় আধিপত্য বিস্তার ও দীর্ঘদিনের গোষ্ঠীগত দ্বন্দ্বের জেরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে মুস্তাকিম মিয়া (১৪) নামে এক স্কুলশিক্ষার্থী গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছে। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত তিনজন গুলিবিদ্ধসহ মোট ১০ জন আহত হয়েছেন। নিহতের ঘটনায় এলাকায় শোক ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।

বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে উপজেলার শ্রীনগর ইউনিয়নের চরাঞ্চল সায়দাবাদ এলাকায় এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনার পরপরই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি সেনাবাহিনী ও বিজিবি সদস্যদের টহল জোরদার করা হয়।

নিহত মুস্তাকিম মিয়া সায়দাবাদ এলাকার সৌদি প্রবাসী মাসুদ রানার ছেলে এবং স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী। আহতদের মধ্যে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন রফিকুল ইসলাম (৩৭), সোহান (২৬) ও রোজিনা বেগম (৩৫)। অন্য আহতদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সায়দাবাদ এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুটি প্রভাবশালী গোষ্ঠীর মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। এক পক্ষের নেতৃত্বে রয়েছেন হানিফ মাস্টার এবং অপর পক্ষের নেতৃত্বে রয়েছেন এরশাদ মিয়া। এই দ্বন্দ্বের জেরে এর আগেও একাধিকবার সংঘর্ষ হয়েছে। অতীতে সংঘর্ষে নারীসহ অন্তত আটজন নিহত হন এবং এলাকায় বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনাও ঘটে।

বুধবার সকালে বিরোধের জের ধরে এরশাদ মিয়ার অনুসারীরা দেশীয় অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে হানিফ মাস্টারের অনুসারীদের বাড়িতে হামলা চালায়। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষ শুরু হয়। সংঘর্ষ চলাকালে এরশাদ গ্রুপের সাবেক ইউপি সদস্য ফিরোজ মিয়ার ভাতিজা মাসুম ওরফে চায়নার ছোড়া গুলিতে মুস্তাকিম মিয়া গুলিবিদ্ধ হয়। গুলিবিদ্ধ হয়ে সে ঘটনাস্থলেই মারা যায়।

নিহতের মা শাহানা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “সকালে আমার ছেলে ঘর থেকে বের হয়ে বাড়ির আঙিনায় দাঁড়িয়ে ছিল। আমরা কোনো দলের সঙ্গে জড়িত নই। হঠাৎ ফিরোজ মিয়ার ভাতিজা মাসুম ওরফে চায়না আমার ছেলেকে গুলি করে। আমার বুক খালি হয়ে গেছে। আমি এই হত্যার দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।”

রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক বিমল চন্দ্র ধর জানান, “গুলিবিদ্ধ অবস্থায় মুস্তাকিমকে হাসপাতালে আনা হয়। প্রাথমিক পরীক্ষায় তার শরীরের বাম পাশে গুলির চিহ্ন পাওয়া যায়। গুলিটি শরীর ভেদ করে বেরিয়ে গেছে। হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে।”

রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মুজিবুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “এলাকায় বর্তমানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে। ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চলছে। আহতদের প্রকৃত সংখ্যা যাচাই করা হচ্ছে।”

এই ঘটনায় এলাকাজুড়ে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা বেড়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত সংঘর্ষ বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ ও নিহত শিক্ষার্থীর হত্যার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন।

বাংলাধারা/এসআর