ঢাকা, বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২১ মাঘ ১৪৩২

জামায়াত প্রার্থী বাদলের মৃত্যুতে শেরপুর-৩ আসনের ভোট স্থগিত

নিজস্ব প্রতিবেদক

 প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ০৪, ২০২৬, ১২:১৭ দুপুর  

ছবি: সংগৃহিত

শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদলের মৃত্যুতে ওই আসনের সব ধরনের নির্বাচনী কার্যক্রম স্থগিত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আইনগত বাধ্যবাধকতার কারণে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কমিশন।

বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে নির্বাচন কমিশনের সচিব আখতার আহমেদ বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, “প্রার্থী মৃত্যুবরণ করায় শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে। বিধি অনুযায়ী পরবর্তী সময়ে এই আসনের জন্য নতুন করে নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা করা হবে।”

এর আগে মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে নুরুজ্জামান বাদল মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শেরপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি মো. আবুল কালাম আজাদ।

পারিবারিক সূত্র জানায়, মঙ্গলবার রাত প্রায় ১০টার দিকে হঠাৎ শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন নুরুজ্জামান বাদল। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে শ্রীবরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ময়মনসিংহের স্বদেশ হাসপাতালে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। তবে ময়মনসিংহে পৌঁছানোর আগেই, রাত আনুমানিক ২টার দিকে শহরের প্রবেশমুখ ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে তার শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি ঘটে এবং সেখানেই তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

নির্বাচন কমিশন সূত্র জানায়, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও), ১৯৭২-এর ১৭ অনুচ্ছেদের (১) উপধারা অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের সময়সীমা পার হওয়ার পর এবং ভোট গ্রহণের আগে কোনো বৈধভাবে মনোনীত প্রার্থী মৃত্যুবরণ করলে সংশ্লিষ্ট আসনের নির্বাচনী কার্যক্রম তাৎক্ষণিকভাবে বাতিল বা স্থগিত করতে হয়। সেই বিধান অনুসারেই শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে।

আইন অনুযায়ী, প্রার্থীর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তা একটি গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ওই আসনের নির্বাচন স্থগিতের ঘোষণা দেন। এরপর নির্বাচন কমিশন পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে নতুন করে নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা করে থাকে।

তবে আরপিওতে কিছু ব্যতিক্রমের কথাও উল্লেখ রয়েছে। যদি কোনো প্রার্থী চূড়ান্তভাবে বৈধ ঘোষণার আগেই মৃত্যুবরণ করেন অথবা একই আসনে ওই দলের অন্য কোনো বৈধ বিকল্প প্রার্থী আগে থেকেই মনোনীত থাকেন, সেক্ষেত্রে নির্বাচন স্থগিত করার প্রয়োজন পড়ে না। শেরপুর-৩ আসনের ক্ষেত্রে এসব ব্যতিক্রম প্রযোজ্য না হওয়ায় নির্বাচন স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

নুরুজ্জামান বাদলের মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একই সঙ্গে শেরপুর-৩ আসনের ভোটের সময়সূচি নিয়ে ভোটার ও প্রার্থীদের মধ্যে নতুন করে অপেক্ষা শুরু হয়েছে।

বাংলাধারা/এসআর