মুক্তিযোদ্ধা চাচাকে বাবা সাজিয়ে চাকরি: কারাগারে জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব
প্রকাশিত: জানুয়ারী ২৮, ২০২৬, ০৫:৪৩ বিকাল
ছবি: সংগৃহিত
মুক্তিযোদ্ধা কোটার সুযোগ নিতে নিজের জন্মদাতা পিতার পরিবর্তে চাচাকে বাবা হিসেবে পরিচয় দিয়ে বিসিএস ক্যাডার হওয়ার অভিযোগে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব) মো. কামাল হোসেনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মো. সাব্বির ফয়েজ তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রসিকিউটর দেলোয়ার জাহান রুমি আদালতে জানান, আসামি মো. কামাল হোসেন গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর উচ্চ আদালত থেকে চার সপ্তাহের আগাম জামিন পান। পরে ২৩ ডিসেম্বর তিনি ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন। সে সময় আদালত তদন্তকারী কর্মকর্তাকে সহযোগিতা ও ডিএনএ পরীক্ষা সম্পন্নের শর্তে তার জামিন মঞ্জুর করেন এবং প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য করেন।
তবে নির্ধারিত শর্ত যথাযথভাবে পালন না করায় দুদক জামিন বাতিলের আবেদন করে। শুনানি শেষে আদালত তার জামিন বাতিল করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
এর আগে গত ২৬ ডিসেম্বর দুদকের উপসহকারী পরিচালক মো. মনজুরুল ইসলাম মিন্টু বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। মামলার অভিযোগে বলা হয়, মো. কামাল হোসেন মুক্তিযোদ্ধা কোটায় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি ও সরকারি চাকরিসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা ভোগের উদ্দেশ্যে নিজের প্রকৃত পিতা মো. আবুল কাশেম ও মা মোছা. হাবীয়া খাতুনের পরিচয় গোপন করেন। এর পরিবর্তে তিনি নিজের আপন চাচা বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আহসান হাবীব ও চাচি মোছা. সানোয়ারা খাতুনকে পিতা-মাতা হিসেবে উপস্থাপন করেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, এভাবে তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সঙ্গে প্রতারণা ও জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে ৩৫তম বিসিএস পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন এবং মুক্তিযোদ্ধা সন্তানের কোটায় প্রশাসন ক্যাডারে চাকরি লাভ করেন।
দুদকের মামলায় তার বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮ ও ৪৭১ ধারায় প্রতারণা ও জাল-জালিয়াতির অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলার নথিতে আরও উল্লেখ করা হয়, কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার সিরাজনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণি এবং ফিলিপনগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনার সময় মো. কামাল হোসেন তার প্রকৃত পিতা মো. আবুল কাশেমের নামই ব্যবহার করেন।
তবে একই বিদ্যালয়ে নবম শ্রেণিতে ভর্তি ও রেজিস্ট্রেশনের সময় তিনি নিজের পরিচয় পরিবর্তন করে মুক্তিযোদ্ধা চাচা মো. আহসান হাবীবকে পিতা এবং চাচি মোছা. সানোয়ারা খাতুনকে মাতা হিসেবে উল্লেখ করেন।
বাংলাধারা/এসআর
