ঢাকা, বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২১ মাঘ ১৪৩২

ফরিদপুরের নির্বাচনী জনসভায় তারেক রহমানের হুঁশিয়ারি

‘মা-বোনদের নিয়ে যাদের ন্যূনতম সম্মানবোধ নেই, তাদের কাছে আমরা নিরাপদ নই’

নিজস্ব প্রতিবেদক

 প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ০৪, ২০২৬, ০৬:৩৮ বিকাল  

ছবি: সংগৃহিত

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, জনগণের স্বাধীনতা, ভোটাধিকার ও কথা বলার অধিকার হরণে নতুন করে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। যারা এই ষড়যন্ত্রে জড়িত, জনগণ তাদের একটি নাম দিয়েছে,‘গুপ্ত’। সময় ও পরিস্থিতি ভেদে এরা বারবার রূপ বদলায়। তাই এদের কাছ থেকে দেশের মানুষ কোনো কল্যাণ আশা করতে পারে না।

বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ফরিদপুরের সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ মাঠে ফরিদপুর বিভাগীয় (সাংগঠনিক) বিএনপি আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১ সালে এই গুপ্ত শক্তির বিতর্কিত ভূমিকার কারণেই বাংলাদেশের লাখ লাখ নারী, মা-বোনকে ভয়াবহ লাঞ্ছনার শিকার হতে হয়েছিল। ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে আজও জনগণকে তাদের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। তিনি বলেন, “নিজের দেশের মা-বোনদের ব্যাপারে যাদের ন্যূনতম সম্মানবোধ নেই, তাদের কাছে আমরা কখনোই নিরাপদ নই।”

তিনি অভিযোগ করেন, সম্প্রতি বিভিন্ন এলাকায় তথাকথিত গুপ্ত সংগঠনের লোকজন বিশেষ করে নারীদের কাছে গিয়ে বিকাশ নম্বর ও জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য চাইছে। তারেক রহমান বলেন, “এটা চরম অনৈতিক আচরণ। যারা অনৈতিক কাজ দিয়ে রাজনীতি শুরু করে, তারা কীভাবে সৎ শাসনের কথা বলে—এ প্রশ্ন আজ জনগণের।”

বিএনপির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে দেশের সব উন্নয়ন হবে জনগণকে কেন্দ্র করে। তিনি বলেন, “বিএনপির সব ক্ষমতার উৎস জনগণ। জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক সরকার থাকলেই দেশ এগিয়ে যেতে পারে।”

ফরিদপুর অঞ্চলের সমস্যা ও সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, নদীভাঙন এই এলাকার বড় সমস্যা। নদীভাঙন রোধ করা গেলে কৃষিপ্রধান ফরিদপুর অঞ্চলে পাটসহ বিভিন্ন ফসল উৎপাদন বাড়বে এবং তা রপ্তানির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন সম্ভব হবে। তিনি পাটশিল্প পুনরুজ্জীবনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড চালু করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তারেক রহমান বলেন, এর মাধ্যমে কৃষকদের কাছে সহজে বীজ ও সার পৌঁছে দেওয়া হবে। একই সঙ্গে বেকারত্ব দূর করতে প্রতিটি এলাকার বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী কলকারখানা গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানান তিনি।

নারীদের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, “নারীদের পেছনে রেখে কোনো জাতি এগোতে পারে না।” নারীদের সহায়তায় খেটে খাওয়া পরিবারগুলোর জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর কথাও জানান তিনি।

ফরিদপুরকে বিভাগ ঘোষণা এবং ফরিদপুর শহরকে সিটি কর্পোরেশন করার দাবির বিষয়ে তারেক রহমান বলেন, “বিভাগ গঠন করলে যদি মানুষের সমস্যার সমাধান হয়, তাহলে ইনশাল্লাহ বিএনপি সরকার গঠন করলে জনগণের সেই দাবি পূরণ করা হবে।”

স্বাস্থ্যসেবার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে এবং হাসপাতাল সংস্কারের পাশাপাশি সারা দেশে হেলথ কেয়ার ব্যবস্থা চালু করা হবে, যাতে মা ও শিশুরা ঘরে বসেই চিকিৎসাসেবা পেতে পারেন।

সমাবেশের কার্যক্রম অনুযায়ী, দুপুর ২টা ৪০ মিনিটে ফরিদপুর স্টেডিয়ামসংলগ্ন মাঠে হেলিকপ্টারে অবতরণ করেন তারেক রহমান। পরে ২টা ৫৫ মিনিটে তিনি মঞ্চে ওঠেন এবং বিকেল ৩টা ২১ মিনিটে বক্তব্য শুরু করে ৩টা ৪৫ মিনিটে শেষ করেন। বিকেল ৩টা ৫৭ মিনিটে তিনি ঢাকার উদ্দেশে ফরিদপুর ত্যাগ করেন।

ফরিদপুর বিভাগীয় এই জনসভায় সভাপতিত্ব করেন ফরিদপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ মোদাররেছ আলী এবং সঞ্চালনা করেন জেলা বিএনপির সদস্য সচিব এ কে এম কিবরিয়া।

সভায় আরও বক্তব্য দেন ফরিদপুর-৩ আসনের প্রার্থী নায়াব ইউসুফ, ফরিদপুর-৪ আসনের প্রার্থী শহীদুল ইসলাম, শরীয়তপুর-২ আসনের প্রার্থী মিয়া মো. নুরুদ্দীন, বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদসহ অন্যান্য নেতারা।

এদিন তারেক রহমান ফরিদপুর, রাজবাড়ী, গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর ও শরীয়তপুর জেলার মোট ১৫টি আসনের বিএনপি প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন।

বাংলাধারা/এসআর