নতুন সংসদ সদস্যদের শপথে সাবেক স্পিকারদের সুযোগ নেই : আইন উপদেষ্টা
প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ০৫, ২০২৬, ০৫:২৬ বিকাল
ছবি: সংগৃহিত
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ করানোর ক্ষেত্রে সাবেক স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকারের কোনো সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। তিনি জানান, এ অবস্থায় প্রধান উপদেষ্টার পরামর্শক্রমে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক মনোনীত কোনো ব্যক্তি শপথ পড়াতে পারবেন। বিকল্প হিসেবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শপথ না হলে প্রধান নির্বাচন কমিশনারও এ দায়িত্ব পালন করতে পারেন।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন আইন উপদেষ্টা।
আসিফ নজরুল বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে আমাদের সামনে মূলত দুটি অপশন রয়েছে। প্রথমত, রাষ্ট্রপতির মনোনীত কোনো ব্যক্তি যা প্রধান উপদেষ্টার পরামর্শক্রমে নির্ধারিত হবে, সংসদ সদস্যদের শপথ পড়াতে পারেন। উদাহরণ হিসেবে প্রধান বিচারপতির নাম আসতে পারে। দ্বিতীয় অপশন হলো, নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার তিন দিনের মধ্যে যদি শপথ সম্পন্ন না হয়, তাহলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার নিজেই শপথ পাঠ করাতে পারবেন।
তিনি আরও বলেন, তবে দ্বিতীয় ক্ষেত্রে একটি সীমাবদ্ধতা রয়েছে। শপথ পড়াতে হলে তিন দিন অপেক্ষা করতে হবে। আমরা এই অপেক্ষায় যেতে চাই না। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে,নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ার পর যত দ্রুত সম্ভব নতুন সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণের ব্যবস্থা করা।
আইন উপদেষ্টা ব্যাখ্যা করেন, সংবিধান অনুযায়ী সাধারণত নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পাঠ করানোর দায়িত্ব স্পিকারের। স্পিকার অনুপস্থিত থাকলে ডেপুটি স্পিকার এবং তারা দুজনই অনুপস্থিত থাকলে বিকল্প বিধান প্রযোজ্য হয়।
তিনি বলেন, বর্তমান বাস্তবতায় স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের কেউই দায়িত্ব পালনের অবস্থায় নেই। একজন নিখোঁজ রয়েছেন, অন্যজন কারাগারে আছেন। তাদের বিরুদ্ধে গুরুতর মামলা রয়েছে এবং বিশেষ করে স্পিকার ইতোমধ্যে পদত্যাগও করেছেন। এই অবস্থায় তাদের দিয়ে শপথ পড়ানোর কোনো সুযোগ আছে বলে আমি মনে করি না।
তিনি জানান, আইন অনুযায়ী স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার শপথ পড়াতে অক্ষম হলে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক মনোনীত ব্যক্তি প্রধান উপদেষ্টার পরামর্শক্রমে এই দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শপথ না হলে প্রধান নির্বাচন কমিশনারও সাংবিধানিকভাবে এই ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারেন।
এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে সংসদ সচিবালয়ের সিনিয়র সচিবের সঙ্গে আলোচনা করা হবে বলে জানান আসিফ নজরুল। তিনি বলেন, সিনিয়র সচিবের সঙ্গে বসে বিষয়টি আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে পর্যালোচনা করা হবে। এরপর চূড়ান্ত অভিমত প্রধান উপদেষ্টার কাছে উপস্থাপন করা হবে।
বাংলাধারা/এসআর
