ঢাকা, শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২৯ মাঘ ১৪৩২

ভোট দিতে কড়া নিরাপত্তায় কেন্দ্রে তারেক রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক

 প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২৬, ১০:০৫ দুপুর  

ছবি: সংগৃহিত

কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৯টা ৩৬ মিনিটে রাজধানীর গুলশান মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে ভোট দিতে আসেন তিনি। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান ও মেয়ে জাইমা রহমান।

তার আগমনকে ঘিরে কেন্দ্র এলাকায় সেনাবাহিনী ও পুলিশের বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি দলীয় নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতেও কেন্দ্রটি ছিল সরগরম। শুধু দলীয় কর্মী-সমর্থকই নয়, আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম প্রতিনিধি ও বিদেশি নির্বাচন পর্যবেক্ষকদেরও বিশেষ নজর ছিল এই কেন্দ্রের দিকে।

এবারই প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন তারেক রহমান। বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, দল সরকার গঠন করলে প্রধানমন্ত্রী পদে তাকে মনোনয়ন দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি ঢাকা-১৭ আসনের পাশাপাশি তার পৈতৃক এলাকা বগুড়া-৬ আসন থেকেও ‘ধানের শীষ’ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

দীর্ঘ ১৭ বছরের প্রবাসজীবন শেষে গত বছরের ২৫ নভেম্বর দেশে ফেরেন তারেক রহমান। দেশে ফেরার দুই দিন পর, ২৭ নভেম্বর তিনি ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত হন। ফলে এবারের নির্বাচন তার জন্য প্রথমবারের মতো সরাসরি ভোটে অংশগ্রহণের সুযোগ এনে দিয়েছে।

বিএনপির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সামরিক শাসক হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় থেকেই রাজপথের রাজনীতিতে যুক্ত হন তারেক রহমান। ১৯৮৮ সালে বগুড়া জেলা বিএনপির গাবতলী উপজেলা ইউনিটের সদস্য হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দলীয় রাজনীতিতে সক্রিয় হন তিনি। পরে ১৯৯১ সালের নির্বাচনের আগে তিনি দলের তৎকালীন চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেশব্যাপী নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেন।

১৯৯৩ সালে বগুড়া জেলা বিএনপির সম্মেলন আয়োজনের মাধ্যমে সংগঠন পরিচালনায় ভূমিকা রাখেন তিনি। সেখানে গোপন ব্যালটের মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্বাচনের উদ্যোগ ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয় এবং পরবর্তীতে অন্যান্য জেলা ইউনিটকেও একই পদ্ধতি অনুসরণে উৎসাহিত করেন।

২০০২ সালে বিএনপির স্থায়ী কমিটি তাকে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব পদে মনোনীত করে। ২০০৫ সালে তিনি সারাদেশে তৃণমূল সম্মেলনের আয়োজন করে উপজেলা পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। ২০০৭ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের সময় তিনি গ্রেপ্তার হন এবং পরবর্তীতে চিকিৎসার জন্য বিদেশে যান।

২০০৯ সালে তিনি বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ২০১৮ সালে খালেদা জিয়া কারাবন্দি হলে তাকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান করা হয়। এরপর থেকেই তিনি দলীয় আন্দোলন ও রাজনৈতিক কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন। সর্বশেষ গত ৩০ ডিসেম্বর খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর ৯ জানুয়ারি দলের স্থায়ী কমিটি আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে বিএনপির চেয়ারম্যান হিসেবে অনুমোদন দেয়।

ভোট দিতে কেন্দ্রে উপস্থিত হওয়াকে ঘিরে ঢাকা-১৭ আসনের ভোটারদের মধ্যেও ব্যাপক কৌতূহল ও আগ্রহ লক্ষ্য করা যায়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তারেক রহমানের এই প্রথম ভোটদান ও নির্বাচনী অংশগ্রহণ দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রতীকী ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

বাংলাধারা/এসআর