ঢাকা, শুক্রবার, ০৬ মার্চ ২০২৬, ২০ ফাল্গুন ১৪৩২

বাগেরহাটে পূবালী ব্যাংকের লকারে রাখা গ্রাহকের ২শ ভরি স্বর্ণ উধাও

নিজস্ব প্রতিবেদক

 প্রকাশিত: মার্চ ০৫, ২০২৬, ০৮:৫০ রাত  

ছবি: সংগৃহিত

বাগেরহাটে পূবালী ব্যাংকের একটি লকার থেকে প্রায় ২০০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার উধাও হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় গ্রাহক সুমন কুমার দাসের অভিযোগের পর বিষয়টি তদন্তে নেমেছে পুলিশ ও ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।

বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) দুপুরে বাগেরহাটের পুলিশ সুপার মোহাম্মাদ হাচান চৌধুরী, পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার মো. আল মামুনসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা পূবালী ব্যাংকের বাগেরহাট শাখায় গিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তারা কয়েক ঘণ্টা ধরে ব্যাংকের লকার ব্যবস্থা ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করেন। এর আগে বুধবার (৪ মার্চ) গ্রাহক সুমন কুমার দাস ব্যাংকের লকারে রাখা স্বর্ণালঙ্কার খোয়া যাওয়ার অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগে জানা যায়, গত বছরের ১৫ অক্টোবর পূবালী ব্যাংকের বাগেরহাট শাখার একটি লকারে নিজের ও আত্মীয়-স্বজনের প্রায় ২০০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার জমা রাখেন সুমন কুমার দাস। সম্প্রতি একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানের জন্য বুধবার তিনি ব্যাংকে গিয়ে লকার খুলে স্বর্ণ নেওয়ার চেষ্টা করলে দেখতে পান সেখানে কোনো স্বর্ণালঙ্কার নেই। বিষয়টি সঙ্গে সঙ্গেই ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ প্রশাসনকে জানানো হলে তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়।

ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহক সুমন কুমার দাস জানান, লকারে তার পরিবারের পাশাপাশি আত্মীয়-স্বজনের স্বর্ণালঙ্কারও রাখা ছিল। হঠাৎ করে এসব স্বর্ণ উধাও হয়ে যাওয়ায় তারা চরম সংকটে পড়েছেন। কীভাবে এমন ঘটনা ঘটল তা দ্রুত তদন্ত করে বের করার দাবি জানান তিনি।

এ বিষয়ে পূবালী ব্যাংকের সহকারী মহাব্যবস্থাপক (এজিএম) মো. মনিরুল আমিন বলেন, গ্রাহকের অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি পুলিশ প্রশাসনকে জানানো হয়েছে এবং তদন্ত চলছে। তিনি দাবি করেন, ব্যাংকের ইতিহাসে এ ধরনের ঘটনা এই প্রথম। তার ভাষ্য অনুযায়ী, লকার ব্যবস্থায় গ্রাহকের অংশের চাবি গ্রাহকের কাছেই থাকে এবং সেই অংশের কোনো চাবি ব্যাংকের কাছে সংরক্ষিত থাকে না। তাই পুরো বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমেই পরিষ্কার হবে।

বাগেরহাটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. শামীম হোসেন জানান, ব্যাংকের লকার থেকে স্বর্ণালঙ্কার খোয়া যাওয়ার অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তদন্ত শেষে এ ঘটনার জন্য কে দায়ী, তা স্পষ্ট হবে বলে তিনি জানান।

এদিকে এই ঘটনার মাত্র দুই দিন আগে একই ভবনে অবস্থিত একটি নগদ ডিস্ট্রিবিউশন হাউস থেকে প্রায় ৩৩ লাখ টাকা নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে সেখানকার হিসাবরক্ষক মো. মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় বুধবার বাগেরহাট সদর মডেল থানায় একটি মামলা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ওই ঘটনায় তদন্ত চলছে এবং অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

বাংলাধারা/এসআর