ঢাকা, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১ ফাল্গুন ১৪৩২

ভারত ম্যাচের আগে উত্তাপ ছড়ালেন সালমান আগা: ‘ক্রিকেটের চেতনা নিয়েই খেলতে চাই’

স্পোর্টস্ ডেস্ক

 প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২৬, ০৪:৩৯ দুপুর  

ছবি: সংগৃহিত

চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের বিপক্ষে বহুল প্রতীক্ষিত ম্যাচের আগে উত্তেজনায় টগবগ করছে ক্রিকেট বিশ্ব। এই আবহেই পাকিস্তান অধিনায়ক সালমান আগা ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার চেয়ে খেলাটির চেতনাকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়ার বার্তা দিয়েছেন। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক টানাপোড়েনের কারণে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ না হলেও বৈশ্বিক টুর্নামেন্টে পাকিস্তান জাতীয় ক্রিকেট দল ও ভারত জাতীয় ক্রিকেট দল মুখোমুখি হলেই তা বিশ্ব ক্রিকেটের সবচেয়ে আলোচিত লড়াইয়ে পরিণত হয়। এবারও তার ব্যতিক্রম নয়, কলম্বোর আর প্রেমাদাসা স্টেডিয়াম-এ অনুষ্ঠিতব্য ম্যাচ ঘিরে উত্তেজনা তুঙ্গে।

সংবাদ সম্মেলনে সালমান বলেন, এই ম্যাচের মূল সৌন্দর্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা হলেও সেটি হওয়া উচিত ক্রীড়াসুলভ মানসিকতা ও সম্মানের ভিত্তিতে। তার ভাষায়, শুরু থেকেই যে চেতনা নিয়ে ভারত–পাকিস্তান ম্যাচ খেলা হয়ে এসেছে, সেই ঐতিহ্য বজায় রেখেই খেলতে চান তারা। কৌশল বা পরিকল্পনা নিয়ে কথা না বলে তিনি বারবার খেলাটির স্পিরিটের কথাই উল্লেখ করেন, যা তার মতে এই ম্যাচের প্রকৃত পরিচয়।

এক সাংবাদিকের প্রশ্ন ছিল, ভারতীয় খেলোয়াড়রা ম্যাচ শেষে হ্যান্ডশেক করতে চাইলে তিনি কী করবেন? উত্তরে সরাসরি কিছু না বলে রহস্য রেখে দেন পাকিস্তান অধিনায়ক। শুধু বলেন, “কাল মাঠেই দেখা যাবে।” তার এই মন্তব্য ম্যাচ ঘিরে কৌতূহল আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

অতীত পরিসংখ্যান অনুযায়ী বৈশ্বিক টুর্নামেন্টে ভারতের বিপক্ষে পাকিস্তানের রেকর্ড খুব একটা স্বস্তিদায়ক নয়। তবে সালমান মনে করেন ইতিহাস নয়, বর্তমান পারফরম্যান্সই ফল নির্ধারণ করে। তিনি বলেন, অতীত বদলানো যায় না, কিন্তু ভালো খেললে নতুন ইতিহাস লেখা সম্ভব। তার বিশ্বাস, দল যদি নিজেদের সামর্থ্যের সর্বোচ্চটা দিতে পারে, তাহলে জয় পাওয়া অসম্ভব নয়।

শ্রীলঙ্কার কন্ডিশনে আগে থেকেই দুটি ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা পাকিস্তানের জন্য বাড়তি সুবিধা হতে পারে বলেও তিনি ইঙ্গিত দেন। পিচ ও আবহাওয়ার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়াকে ইতিবাচক দিক হিসেবে দেখছেন তিনি এবং মনে করেন অন্তত ৪০ ওভার ভালো ক্রিকেট খেলতে পারলেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া সম্ভব।

দলের স্পিনার উসমান তারিক-এর বোলিং অ্যাকশন নিয়ে ওঠা বিতর্ক প্রসঙ্গে অধিনায়ক বলেন, তিনি ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল থেকে দুইবার বৈধ অ্যাকশনের স্বীকৃতি পেয়েছেন। তাই এসব সমালোচনাকে তিনি গুরুত্ব দিচ্ছেন না। তার মতে, উসমান ভালো বল করছে এবং দল তার পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট।

এদিকে ফর্মহীনতার সমালোচনায় থাকা বাবর আজম-কে নিয়েও আশাবাদী সালমান। তিনি বলেন, বাবর দলের গুরুত্বপূর্ণ ব্যাটার এবং নিয়মিত রান করে যাচ্ছে। তার ওপর দলের পূর্ণ আস্থা রয়েছে এবং ব্যাটিং অর্ডারে বড় কোনো পরিবর্তনের পরিকল্পনাও নেই।

টসের গুরুত্ব প্রসঙ্গে অধিনায়কের মন্তব্য, ম্যাচের ভাগ্য টসে নির্ধারিত হয় না; বরং যে দল ভালো ক্রিকেট খেলবে, তারাই জিতবে। সব মিলিয়ে তার বক্তব্যে স্পষ্ট চাপ, ইতিহাস কিংবা বাইরের বিতর্ক নয়; পাকিস্তান দল মনোযোগ দিতে চায় কেবল মাঠের পারফরম্যান্সে।

বিশ্লেষকদের মতে, ম্যাচের আগে সালমান আগার এই সংযত কিন্তু আত্মবিশ্বাসী বার্তা দলকে মানসিকভাবে স্থির রাখতে সহায়ক হতে পারে। এখন দেখার বিষয়, কথার সেই ‘ক্রিকেট চেতনা’ মাঠের খেলায় কতটা প্রতিফলিত হয়।

বাংলাধারা/এসআর