ঢাকা, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১ ফাল্গুন ১৪৩২

ইইউ পর্যবেক্ষক প্রধান ইভার্স ইজাবস

নির্বাচন আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে গ্রহণযোগ্য, তবে নারী প্রতিনিধিত্বে হতাশা

নিজস্ব প্রতিবেদক

 প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২৬, ০২:৫০ দুপুর  

ছবি: সংগৃহিত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী গ্রহণযোগ্য, প্রতিযোগিতামূলক ও বিশ্বাসযোগ্যভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে মূল্যায়ন দিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন। তবে নির্বাচনে নারী প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ ও নির্বাচিত হওয়ার হার আশাব্যঞ্জক নয় বলে হতাশা প্রকাশ করেছেন মিশন প্রধান ইভার্স ইজাবস। 

শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত নির্বাচন মূল্যায়নসংক্রান্ত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, নির্বাচনটি এমনভাবে পরিচালিত হয়েছে যা গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা ও আইনের শাসন পুনরুদ্ধারের পথে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি নির্দেশ করে। তার ভাষায়, দীর্ঘ সময় পর এই নির্বাচন সত্যিকারের প্রতিযোগিতামূলক ছিল এবং একটি নতুন আইনি কাঠামোর অধীনে অনুষ্ঠিত হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং মৌলিক স্বাধীনতাকে সম্মান করে। তিনি উল্লেখ করেন, নির্বাচন পরিচালনায় নির্বাচন কমিশন স্বাধীনভাবে ও স্বচ্ছতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছে এবং স্টেকহোল্ডারদের আস্থা বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে।

ইভার্স ইজাবস বলেন, কমিশন জনগণের আস্থা পুনর্গঠনে সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছে। সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের দ্রুত জবাব দেওয়া, জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট তথ্য প্রকাশ এবং রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে নিয়মিত সংলাপ বজায় রাখা—এসব পদক্ষেপ নির্বাচন ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে সহায়ক হয়েছে। তিনি আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সহযোগিতাও কমিশনের কার্যক্রমকে কার্যকর করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

তবে ইতিবাচক মূল্যায়নের পাশাপাশি কিছু উদ্বেগও তুলে ধরেন ইইউ পর্যবেক্ষক প্রধান। তিনি বলেন, বিক্ষিপ্ত স্থানীয় রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা এবং অনলাইনে বিভ্রান্তিকর বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তথ্য প্রচার গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য ক্ষতিকর। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ভবিষ্যতে আরও কার্যকর ব্যবস্থা প্রয়োজন বলে তিনি মন্তব্য করেন। পাশাপাশি নির্বাচনী আইনি কাঠামোকে তিনি সামগ্রিকভাবে গণতান্ত্রিক নির্বাচন উপযোগী বললেও প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা আরও জোরদার করতে কিছু সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে বলে মত দেন।

নারী প্রতিনিধিত্ব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এবারের নির্বাচনে নারী প্রার্থীর সংখ্যা যেমন কম ছিল, তেমনি নির্বাচিত নারী প্রতিনিধির সংখ্যাও প্রত্যাশিত পর্যায়ে পৌঁছায়নি। গণতন্ত্রকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক করতে ভবিষ্যতে নারী অংশগ্রহণ বাড়ানো জরুরি বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

উল্লেখ্য, এবারের নির্বাচন পর্যবেক্ষণে ইউরোপীয় ইউনিয়ন মোট ২০০ জন পর্যবেক্ষক পাঠিয়েছে, যার মধ্যে ৯০ জন ছিলেন স্বল্পমেয়াদি পর্যবেক্ষক। ২০০৮ সালের পর এটিই বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পূর্ণাঙ্গ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন। বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক এই মূল্যায়ন নির্বাচন প্রক্রিয়ার বৈশ্বিক গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং ভবিষ্যৎ গণতান্ত্রিক সংস্কার প্রক্রিয়ার জন্যও তা দিকনির্দেশনা দেবে।

বাংলাধারা/এসআর