ঢাকা, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১ ফাল্গুন ১৪৩২

নতুন মন্ত্রীদের শপথ পড়াবেন রাষ্ট্রপতি : মন্ত্রিপরিষদসচিব

নিজস্ব প্রতিবেদক

 প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২৬, ০৪:১২ দুপুর  

ছবি: সংগৃহিত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে চলছে। মন্ত্রিপরিষদসচিব ড. শেখ আব্দুর রশীদ জানিয়েছেন, আগামী তিন থেকে চার দিনের মধ্যেই নতুন মন্ত্রীদের শপথ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হতে পারে এবং সংবিধান অনুযায়ী নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ পড়াবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, শপথ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে প্রশাসনিক প্রস্তুতি শুরু হয়েছে এবং অনুষ্ঠানে আনুমানিক এক হাজার অতিথিকে আমন্ত্রণ জানানোর পরিকল্পনা রয়েছে। রাষ্ট্রীয় এই আয়োজনকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ও প্রোটোকল ব্যবস্থাও জোরদার করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদসচিব জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী সংসদ সদস্যদের গেজেট প্রকাশের পর তাদের শপথের আয়োজন করবে জাতীয় সংসদ সচিবালয়। সংসদ সদস্যদের শপথ সম্পন্ন হওয়ার পরই আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হবে। এরপর সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নির্বাচিত সদস্যরা সংসদীয় দলনেতা নির্বাচন করবেন এবং রাষ্ট্রপতি সেই দলনেতাকে সরকার গঠনের আহ্বান জানাবেন—যা বাংলাদেশের সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দলনেতা নির্বাচনের পর তার নাম আনুষ্ঠানিকভাবে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো হবে। এরপর বিভাগ থেকে প্রয়োজনীয় প্রোটোকল অনুযায়ী মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানিয়ে চিঠি পাঠানো হবে। কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে রোজার আগেই নতুন মন্ত্রিসভার শপথ সম্পন্ন করার বিষয়ে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯৯টি আসনে ভোটগ্রহণ হয় এবং পরদিন নির্বাচন কমিশন ২৯৭টি আসনের বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করে। উচ্চ আদালতের নির্দেশনার কারণে চট্টগ্রাম-২ ও চট্টগ্রাম–৪ আসনের ফলাফলের গেজেট এখনো জারি করা হয়নি। ফলে ওই দুটি আসনের আনুষ্ঠানিক ফল প্রকাশের পর সংসদের পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম শুরু হবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দ্রুত সময়ের মধ্যে শপথ আয়োজনের উদ্যোগ নতুন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণ প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করবে এবং প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সহায়ক হবে। নতুন মন্ত্রিসভার গঠন ও শপথ অনুষ্ঠান এখন দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে।

বাংলাধারা/এসআর