বাংলাধারা রিপোর্ট

প্রকাশিত: ৫৮ মিনিট আগে, ০৪:২১ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত ভারতের আদালতের: শীর্ষ কর্মকর্তা

ছবি: সংগৃহীত

ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে প্রত্যর্পণের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ভারতের আদালতই নেবে বলে জানিয়েছেন দেশটির সরকারের এক শীর্ষ কর্মকর্তা। তাঁর মতে, বিষয়টি কোনো রাজনৈতিক বা কূটনৈতিক সিদ্ধান্তের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং ভারতের প্রচলিত আইন ও আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই প্রত্যর্পণের বিষয়টি নিষ্পত্তি হবে।

রোববার (১৬ আগস্ট) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ভারতের ওই শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আদালত নেবে। বাংলাদেশে তার বিরুদ্ধে যেসব অপরাধের অভিযোগ ও দণ্ড রয়েছে, সেগুলো ভারতের আইনেও অপরাধ হিসেবে গণ্য হয় কি না—প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়ায় সেটিও বিবেচনায় নেওয়া হবে।

ভারত সরকারের আরেক শীর্ষ কর্মকর্তা ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-কে জানিয়েছেন, শেখ হাসিনা আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে বাংলাদেশে ফেরার পরিকল্পনা করছেন। তবে তিনি কীভাবে বা কোন পরিস্থিতিতে ফিরবেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, ২০১৩ সালে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে স্বাক্ষরিত প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় প্রয়োজনীয় সব নথি সংযুক্ত করেই শেখ হাসিনাকে ফেরত চেয়েছে বাংলাদেশ। মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর প্রত্যর্পণ নিয়ে এখন ভারতের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে তাকিয়ে আছে ঢাকা।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে দেশ ছাড়েন শেখ হাসিনা। এরপর থেকে তিনি ভারতে অবস্থান করছেন। বর্তমানে তিনি নয়াদিল্লির একটি রেস্ট হাউজে রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-কে জানিয়েছেন, ভারতে অবস্থান করলেও শেখ হাসিনা দলের কয়েকজন নেতাকর্মী ও ক্যাডারের সঙ্গে মাঝে মাঝে যোগাযোগ করেন। তারা আরও জানান, বর্তমানে তিনি নিয়মিত টেবিল টেনিস খেলেন। শেখ হাসিনার বর্তমান বয়স ৭৮ বছর।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় নিরস্ত্র মানুষ হত্যার ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়। মামলার বিচার শেষে ট্রাইব্যুনাল তাকে মৃত্যুদণ্ড দেন। এর পর থেকেই তাকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে এনে রায় কার্যকরের বিষয়টি দুই দেশের কূটনৈতিক আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

এখন শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ প্রশ্নে ভারতের আদালতের সিদ্ধান্তই হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ফলে বাংলাদেশের পাঠানো নথি, দুই দেশের প্রত্যর্পণ চুক্তি এবং ভারতের নিজস্ব আইনি কাঠামোর আলোকে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয়, সেদিকেই নজর থাকবে সংশ্লিষ্ট মহলের।

বাংলাধারা/শারমিন

 

মন্তব্য করুন